মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি বিষয়ক তথ্য

খতিয়ান কী ?
মৌজা ভিত্তিক এক বা একাদিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরন সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।
সি,এস রেকর্ড কী ?
সি,এস হল ক্যাডাস্টাল সার্ভে। আমাদের দেশে জেলা ভিত্তিক প্রথম যে নক্সা ও ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে সি,এস রেকর্ড বলা হয়।
এস,এ খতিয়ান কী ?
সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস,এ খতিয়ান বলা হয়।  
নামজারী কী ?
উত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় কোন জমিতে কেউ নতুন মালিক হলে  তার নাম খতিয়ানভূক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলে।
জমা খারিজ কী ?
জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়।
পর্চা কী ?
ভূমি জরিপকালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকের নিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়।
তফসিল কী ?
তফসিল অর্থ জমির পরিচিতিমূলক বিস্তারিত বিবরন। কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমান ইত্যাদি তথ্য সমৃদ্ধ বিবরনকে তফসিল বলে।
মৌজা কী ?
ক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতি থানা এলাকাকে অনোকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। থানা এলাকার এরুপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।
খাজনা কী ?
ভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভুমি কর আদায় করে তাকে ভুমির খাজনা বলা হয়।
ওয়াকফ কী ?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যানমুলক প্রতিষ্ঠানের ব্যায় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে।
মোতওয়াল্লী কী ?
ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান যিনি করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে।মোতওয়াল্লী ওয়াকফ প্রশাষকের অনুমতি ব্যতিত ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।
ওয়রিশ কী ?
ওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধানের আওতায় উত্তরাধিকারী। কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে আইনের বিধান অনুযায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলা হয়।
ফারায়েজ কী ?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
খাস জমি কী ?
ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।
কবুলিয়ত কী ?
সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে খাজনা প্রদানের যে অংঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।
দাগ নং কী ?
মৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেনী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিমানা খুটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়। মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত্ব নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে।
ছুট দাগ কী ?
ভূমি জরিপের প্রাথমিক পর্যায়ে নক্সা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভূলক্রমে বাদ পরে যায় অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের পরে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওয়ার কারনে যে ক্রমিক নাম্বার বাদ দিতে হয় তাকে ছুট দাগ বলা হয়।
চান্দিনা ভিটি কী ?
হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের অকৃষি প্রজা স্বত্ত্য এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলা হয়।
অগ্রক্রয়াধিকার কী ?
অগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্ত্বি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে অন্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান। কোন কৃষি জমির মালিক বা অংশিদার কোন আগন্তুকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশিদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্য সহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলা হয়।
আমিন কী ?
ভূমি জরিপের মধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলা হত।
সিকস্তি কী ?
নদী ভাংঙ্গনে জমি পানিতে বিলিন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলা হয়। সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হলে সিকস্তি হওয়ার প্রাককালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন, তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।
পয়স্তি কী ?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলা হয়।
নাল জমি কী ?
সমতল ২ বা ৩ ফসলি আবাদি জমিকে নাল জমি বলা হয়।
দেবোত্তর সম্পত্তি কী ?
হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, ব্যাবস্থাপনা ও সু-সম্পন্ন করার ব্যয় ভার নির্বাহের লক্ষ্যে উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি সম্পত্তি বলা হয়।  
দাখিলা কী ?
ভূমি মালিকের নিকট হতে ভূমি কর আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নং-১০৭৭) ভূমিকর আদায়ের প্রমানপত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।
ডি,সি,আর কী ?
ভূমি কর ব্যতিত অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নং-২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডি,সি,আর বলে।
দলিল কী ?
যে কোন লিখিত বিবরনি যা ভবিষ্যতে আদালতে স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিষ্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করেন তাকে সাধারনভাবে দলিল বলে।
কিস্তোয়ার কী ?
ভূমি জরিপকালে চতুর্ভূজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করারপর  সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভূমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নক্সা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।
খানাপুরি কী ?
জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

ভূমি আইন
ভূমির সাথে মানুষেরসম্পর্কটা পৃথিবীর সবচাইতে আদিম সম্পর্ক। যত দিন গেছে, যত দিন যাচ্ছে, এইসম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ছে। শুধু তাই নয়, দিন বদলের সাথে সাথে ভূমির সাথেমানুষের এ সম্পর্কের এই রূপ ধারণাও বদলে গেছে। ফলে তৈরী হয়েছে বিভিন্ন রকমসমস্যা। আবার বের হয়েছে সেইসব সমস্যার সমাধানও। কিন্তু সমস্যা যেভাবে তৈরীহয় প্রতিনিয়ত, সেভাবে তার সমাধানটা আসে না। এ কারণে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাআমাদের সমাজে সব সময়ই একটা বড় এবং প্রধান সমস্যা। আর এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আইনের প্রয়োজনীয় বিধিবিধান না জানাটা এইজটিলতাকে করে তোলে আরো গুরুতর।
আমাদের এই ওয়েবসাইটে ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় বিশ্লেষণসহকারে সহজ ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোরওপর:
ভূমি জরিপ,দলিল সম্পাদন, ভূমি ক্রয়, ভূমি রেজিস্ট্রি, নামজারী বিষয়ক আইনি বিধিবিধান এবংপদক্ষেপ,  সিকস্তি ওপয়োস্তি, ভূমি উন্নয়ণ কর(খাজনা), রেন্ট সার্টিফিকেট সমস্যা এবং আইনিপদক্ষেপ,নিলাম সংক্রান্ত, খাস জমি ব্যবস্থাপণা এবং বন্দোবস্ত সংক্রান্তনীতিমালা, জলমহাল, বালুমহল ও হাটবাজারের ইজারা এবং বন্দোবস্ত, সম্পত্তিঅধিগ্রহনসংক্রান্ত আবশ্যকীয় বিধিবিধানও সতকর্তা,ওয়াকফ, মোক্তারনামা, অগ্রক্রয়, ইজমেন্টরাইট বা সুখাধিকার, দেওয়ানি আদালতে ভূমি বিষয়ক এখতিয়ার, বন্টন দলিল, বাটোয়ারা মামলা, চুক্তি প্রবলের মামলা, বায়নানামা, ভূমি দখলসংক্রান্ত আইন ইত্যাদি।
তাছাড়া ভূমি আইনে ব্যবহৃত বিশেষ শব্দাবলীর ব্যাখ্যাযত্নসহকারে জুড়ে দেয়া হয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ন আইন, ১৯৫০
(১৯৫১ সালের ২৮নং আইন) 

[১৬ই মে, ১৯৫১]
প্রথম খণ্ড
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক


ধারা-(সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও বিস্তৃতি)
উপধারা-(১)এই আইন ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন নামে অভিহিত হইবে।
উপধারা-(২)এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।

ধারা-২ সংজ্ঞাসমূহ)
এই আইনের বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনোকিছু না থাকলে-
উপধারা-(১)'সেস'শব্দটি ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় হার রেগুলেশন মোতাবেক ধার্যকৃত স্থানীয় হারসমূহকে অন্তর্ভূক্ত হইবে।
উপধারা-(২)'দাতব্য উদ্দেশ্য'শব্দটি গরীবদের ত্রাণ, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ও সাধারণ জনহিতকর অন্যান্য কার্যকে অন্তর্ভুক্ত করে;
উপধারা-(৩)'কালেক্টর'অর্থ একটি জেলার কালেক্টর এবং একজন ডেপুটি কমিশনার ও সরকার কতৃর্ক এই আইনের অধীনে কালেক্টরের সমস্ত বা যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত হতে পারে এরূপ অন্যান্য কর্মকর্তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে;
উপধারা-(৪)'কমিশনার'বলতে ৪৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক নিযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্রয় কমিশনারকে বুঝায়;
উপধারা-(৫)'কোম্পানী'বলতে ১৯১৩ সালের কোম্পানী আইনের অনুরূপ অর্থ বুঝাবে;
উপধারা-(৬)'সম্পুর্ণখাই খালাসী রেহেন'বলতে ঋণ হিসেবে গৃহীত অর্থ বা শস্য প্রদান করার নিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো প্রজা কর্তৃক কোনো ভূমির দখলাধিকার এই শর্তে হস্তান্তর করাকে বুঝায় যে রেহেনের মেয়াদকাল ঐ ভূমি হতে প্রাপ্ত মুনাফার দ্বারা সকল সুদসহ ঋণ শোধ বলে ধরে নেয়া হবে;
উপধারা-(৭)জোতসমুহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'একত্রীকরণ'শব্দটি দ্বারা বিভিন্ন জোতে অবস্থিত সকল অথবা যে কোনো পৃথক পৃথক দাগের ভূমি একত্রে সন্নিবেশ করার নিমিত্ত পুনঃবন্টন কার্যক্রমকে বুঝায়;
উপধারা-(৮)'সমবায় সমিতি'বলিতে ১৯১২ সালের সমবায় সমিতি আইন বা ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় সমবায় সমিতি আইন মোতাবেক রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রিকত বলে গণ্য একটি সমিতিকে বুঝায়;
উপধারা-(৯)'রায়তী কৃষক'বা অধীনস্থ রায়তী কৃষক' বলিতে এমন রায়ত বা অধীনস্থ রায়তকে বুঝায় যে নিজ বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা চাকরদের দ্বারা বা বর্গাদারদের দ্বারা বা ভাড়াটে শ্রমিকদের দ্বারা বা সহ-অংশীদারদের দ্বারা চাষের নিমিত্ত ভূমি অধিকারে রাখে;
উপধারা-()-'পরিত্যাক্ত চা বাগান'অর্থ একক ব্যবস্থাপনার অধীনে রাখা ভূমির যে কোনো খণ্ড বা খণ্ডের সমষ্টি যা চা-এর চাষ বা চা উত্‍পাদনের নিমিত্ত দখল, বন্দোবস্ত অথবা ইজারা দেওয়া হইয়াছিল বা যার মধ্যে চা গাছের ঝোপ ছিল বা আছে এবং যা সরকার কতৃর্ক প্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে পরিত্যক্ত চা বাগান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং উক্ত ভূমির উপর নির্মিত দালান কোঠাও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।

শর্ত থাকে যে, কোনো ভূমির একটি খণ্ড বা খণ্ডগুলিকে পরিত্যক্ত বা চা বাগান হিসেবে ঘোষণা প্রদানকালে সরকার বিবেচনা করিতে পারেন-
(i)পূর্ববর্তী পাঁচ বছরে ঐরূপ ভূমির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিমাণ এলাকায় চা-এর আবাদ করা হয়েছে;(ii) পূর্ববর্তী সাত বছরের অধিককাল এবং যে এলাকায় চা-এর আবাদ করা হয়েছে বিগত ৩ বছরে তার একর প্রতি উত্‍পাদন সেই সময় বাংলাদেশে চা আবাদকারী সমস্ত এলাকার একর প্রতি গড় উত্‍পাদনের শতকরা ২৫ ভাগের কম কি না সে বিষয়ে চা বোর্ডের মতামত;

উপধারা-(-খ ) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিচালক' শব্দসমুহ ভূমি রেকর্ড এবং জরিপের অতিরিক্ত পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করে।

উপধারা-(১০)'দায়দায়িত্ব' শব্দটি কোনো জমিদারী, রায়তীস্বত্ব, হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বা ভূমি সম্পর্কে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা উক্ত জমিদারী, রায়তীস্বত্ব,হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বা ভূমির উপরে দখলদার কতৃর্ক সৃষ্ট কোনো রেহেন, দায়, পূর্ব দায়, অধীনস্থ প্রজাস্বত্ব, ইজমেন্ট বা অপরাপর অধিকার বা স্বার্থ কিংবা ঐগুলিতে নিহিত তার নিজস্ব স্বার্থের উপর সীমাবদ্ধতা অারোপ করে তাকে বুঝায়।

উপধারা-(১১)'এস্টেট'অর্থ অাপাতত বলবত্‍ অাইন অনুসারে একটি জেলার কালেক্টর কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত ও রক্ষিত রাজস্ব প্রদানকারী জমি ও রাজস্বমুক্ত জমির সাধারণ রেজিস্টারগুলির কোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত জমি এবং সরকারী সরকারী খাস মহল সমুহ ও রাজস্বমুক্ত জমি যাহা রেজিস্টার অন্তর্ভুক্ত হয় নাই এবং সিরেট জেলার নিম্নলিখিত জমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত -

(i)যে জমির জন্য অনতিবিলম্বে বা ভবিষ্যতে ভূমি রাজস্ব প্রদান করিতে হইবে যাহার জন্য একটি পৃথক চুক্তি সম্পাদন করা হইয়াছে;

(ii)যে জমির জন্য ভূমি রাজস্ব হিসাবে পৃথক একটি অংশ প্রদান করিতে হইবে কিংবা নিম্নরুপ করা হইয়াছে অথচ সেই অর্থের জন্য সরকারের সহিত কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয় নাই;

(iii)এরূপ ভূমি যেগুলি সামাজিকভাবে ডেপুটি কমিশনারের রাজস্বমুক্ত এস্টেটের রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি;(iv)এরূপ ভূমি যেগুলি সম্পূর্ণরূপে সরকারী সম্পত্তি হিসেবে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব রেগুলেশনের ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রস্তুতকৃত রাজস্বভূক্ত বা রাজস্বমুক্ত এস্টেটের সাধারণ রেজিস্টারে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে;
উপধারা-(১২)'হাট' বা 'বাজার'অর্থ সেই স্থান যে স্থানে লোকেরা সপ্তাহের প্রতিদিন বা বিশেষ দিনে প্রধানতঃ কৃষিপণ্য বা সবজি, গবাদিপশু, পশুর চামড়া, হাস-মুরগী, মাছ-মাংস,ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত সামগ্রী বা অন্যান্য খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য বা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য বেচাকেনার জন্য সমবেত হয়; ঐ স্থানে অবস্থিত ঐ সকল জিনিসের দোকানপাটও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৩)'হোল্ডিং বা জোত'অর্থ ভূমির একটি খণ্ড অথবা খণ্ডসমূহ বা তার একটি অবিভক্ত অংশ যা কোনো রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত এবং যা কোনো পৃথক প্রজাস্বত্বের বিষয়বস্তু;
উপধারা-(১৪)'বসতবাটি'বলিতে বাসগৃহ ও তার আওতাভূক্ত ভূমি সেই সঙ্গে এ ধরনের বাসগৃহ সংলগ্ন বা সংশ্লিষ্ট কোনো আঙ্গিনা, বাগান, পুকুর,প্রার্থনার জায়গা, ব্যক্তিগত গোরস্থান বা শ্নশানঘাটকে বুঝায় এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে বাসগৃহের সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে বা কৃষি বা সবজি চাষের সঙ্গে সংযুক্ত বহির্বাটিকে বা সুনির্দিষ্ট সীমানার মধ্যকার ভূমিকে তা পতিত হোক বা না হোক;
উপধারা-(১৫)কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'খাস ভূমি' বা 'খাস দখলীয় ভূমি'বলিতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যতীত ইজারাভূক্ত ভূমি, ঐ ভূমিতে দণ্ডায়মান ভবন ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন স্থানও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬) 'ভূমি'বলিতে সেই রকমের ভূমিকে বুঝায় যেগুলি আবাদ করা হয় বা চাষাবাদ না করে ফেলিয়া রাখা হয় বা বছরের যে কোনো সময় জলে ভরা থাকে; এই ভূমি হইতে উদ্ভুত সুবিধা, ঘর-বাড়ি, দালানকোঠা এবং মাটির সাথে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুর সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬-ক)সাময়িকভাবে বলবত্‍ যে কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে বা কোনো আদালতের রায় বা ডিক্রি আদেশে যাই থাকুক না কেন (১৬) উপধারায় বর্ণিত ভূমির সংজ্ঞার মধ্যে সকল রকমের উন্মুক্ত বা বদ্ধ মত্‍স্য খামার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৭)'অকৃষি প্রজা'অর্থ একজন প্রজা যে কৃষি চাষ বা ফলচাষের সাথে সম্পর্কিত নয় এরূপ ভূমির অধিকারী থাকে; তবে যে ব্যক্তি চিরস্থায়ী ইজারা ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার ইজারাসূত্রে ভূমি ও তার উপর নির্মিত দালান ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন জায়গা অধিকারে রাখে সে তার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
উপধারা-(১৮)'নোটিফিকেশন' অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,
উপধারা-(১৮-ক)'ফলবাগান'বলিতে মানুষের প্রচেষ্টায় সৃষ্ট ফল গাছের বাগানকে বুঝায়, নারিকেল, সুপারি ও আনারসের এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৯)'নির্ধারিত'অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়া;
উপধারা-(২০) 'স্বত্বাধিকারী'বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে অছি-এর মাধ্যমে বা তার নিজের কল্যাণে কোনো এস্টেট বা তার অংশ বিশেশের মালিকানার অধিকারী থাকে;
উপধারা-(২১)'রেজিস্ট্রিকৃত' অর্থ কোনো দলিল রেজিস্ট্রিকরণের জন্য সাময়িকভাবে বলবত্‍ আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত;
উপধারা-(২২)'খাজনা'বলিতে প্রজা কতৃর্ক ভূমি ব্যবহার বা দখলে রাখার নিমিত্ত আইনানুগভাবে ভূ-স্বামীকে পরিশোধযোগ্য বা অর্পণযোগ্য কোনো নগদ অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রীকে বুঝায়;
উপধারা-(২৩) 'খাজনা গ্রহীতা'অর্থ একজন স্বত্বাধিকারী বা রায়তিস্বত্বের অধিকারী ও সেই সঙ্গে একজন রায়ত,একজন অধীনস্থ রায়ত বা একজন অকৃষি প্রজা যাহার ভূমি ইজারা প্রদান করা হয়েছে ও তত্‍সহ সেবা কার্য প্রদান করার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকে নিষ্কর ভূমি প্রদানকারী উপরস্থ মালিক এর অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু চিরস্থায়ী ব্যতীত অন্য প্রকারে যে ব্যক্তি তার এরূপ অকৃষি ভূমি ও এর উপরের কোনো দালান ও তত্‍সংলগ্ন প্রয়োজনীয় জায়গা স্থায়ীভাবে ইজারা প্রদান করিয়াছে সে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নহে;
উপধারা-(২৪)'রাজস্ব অফিসার'বলিতে এই আইন মোতাবেক বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি অনুসারে একজন রাজস্ব কর্মকর্তার সকল কার্য বা যে কোনো কার্য সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত কোনো অফিসার রাজস্ব অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(২৫)'স্বাক্ষরিত'বলিতে অন্তর্ভুক্ত যে ক্ষেত্রে স্বীয় নাম লিখিতে অক্ষম কোনো ব্যক্তি চিহ্নটি প্রদান করে; উক্ত ব্যক্তির নামও স্বাক্ষরিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত;
উপধারা-(২৬) উত্তরাধিকার'বলিতে উইল ছাড়া বা উইলের মাধ্যমে প্রদত্ত উভয়বিধ উত্তরাধিকার অন্তর্ভুক্ত হয়;
উপধারা-(২৭)'প্রজা'বলিতে এমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে অপরের ভূমি দখল করিয়া আছে ও বিশেষ চুক্তির অবর্তমানে উক্ত ভূমির জন্য উক্ত ব্যক্তিকে খাজনা দিতে বাধ্য থাকেঃ
শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণভাবে প্রচলিত আধিবাবর্গা চাষী বা ভোগ ব্যবস্থাধীনে অপরের ভূমি এই শর্তে চাষাবাদ করে যে উক্ত ব্যক্তিকে সে উত্‍পন্ন ফসলের একটি অংশ প্রদান করিবে তবে সে প্রজা নহে,কিন্তু উক্ত ব্যক্তি প্রজা হিসেবে গণ্য হইবে;
উক্ত ব্যক্তিকে যদি তার ভূ-স্বামী কতৃর্ক সম্পাদিত বা তার অনুকূলে সম্পাদিত ও ভূমির মালিক কর্তৃক গৃহীত কোনো দলিলের মাধ্যমে একজন প্রজা হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়; দেওয়ানী আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে যদি প্রজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কিংবা হয়;
উপধারা-(২৮)'মধ্যস্বত্ব'অর্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অধীনস্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থ;
উপধারা-(২৯)'গ্রাম'বলিতে সরকার কর্তৃক বা সরকারের কতৃর্ত্বাধীনে পরিচালিত জরীপে সুনির্দিষ্ট এবং পৃথক গ্রাম হিসেবে সীমানা চিহ্নিত ও জরিপকৃত এবং রেকর্ডভূক্ত এলাকাতে বুঝায় এবং যেখানে এ ধরনের কোনো জরিপ করা হয়নি সেখানে কালেক্টর রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনক্রমে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে ঐ এলাকাতে গ্রাম ঘোষণা করতে পারেন;
উপধারা-(৩০)বত্‍সর বা কৃষি বত্‍সর বলিতে পহেলা বৈশাখে শুরু বাংলা সনকে বুঝাইবে;
উপধারা-(৩১)যে সমস্ত শব্দ বা বর্ণনা এই আইনের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু এই আইনে যেগুলির ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এবং বঙ্গীয় প্রজস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ বা সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৩৬ এ ব্যবহৃত হয়েছে ঐ সমস্ত শব্দ ও বর্ণনার অর্থ যে ভাবে ঐ আইনসমূহে দেয়া হয়েছে সেগুলি ঐ আইন যে এলাকায় প্রযোজ্য সেই এলাকা সমূহে একই অর্থ বুঝাইবে।
ধারা-২ক(অব্যাহতি)

সরকার জনস্বার্থে কোনো জমিতে বা বিভিন্ন শ্রেণীর জমিতে নিহিত স্থানীয় কতৃর্পক্ষের স্বার্থকে এই আইন অনুসারে অর্জন করা হইতে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা অব্যাহতি দিতে পারিবেন।

দ্বিতীয় খন্ড
দ্বিতীয় অধ্যায়
কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থে অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিশেষ বিধানাবলী

 

ধারা- (কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থ অধিগ্রহণ এবংউহার ফলাফল)
উপধারা-(১)এই আইন কার্যকর হওয়ার সময়ে সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে খাজনা প্রাপকের নিম্নবর্ণিত সম্পত্তি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা অাইনসংগতবলিয়া বিবেচিত হইবে-
(i)বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত কোনো জেলায় বা জেলার অংশে বা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনা প্রাপকের এস্টেট, মধ্যস্বস্ত, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান সকল স্বার্থ; এবং
(ii)১৮৭৯ সালের কোর্ট অব ওয়ার্ডস এ্যাক্টের অধীনে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাধীনে পরিচালিত খাজনা প্রাপকের এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্ত-ভূমিতে (land) এবং মাটির নীচে অবস্থিত খনিতে বিদ্যমান সকল স্বার্থ এই অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত।
উপধারা-(২)এই আইনের ২০ ধারার (২), (৩), (৪), (৫) ও (৬) উপধারায় বর্ণিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ সম্পর্কিত (১) উপধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সাথে সাথে বা পরে যে কোনো সময় সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত তারিখ হইতে যে সকল ভূমি খাজনা প্রাপক খাস দখলে রাখিতে পারিবে না তা সরকার অধিগ্রহণ করিবে এবং ঐ সমস্ত সম্পত্তি দায়মুক্ত অবস্থায় চুড়ান্তরূপে সরকারের উপর বর্তাইবে।
উপধারা-(২ক)এই ধারা মোতাবেক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে খাজনা প্রাপকের নাম নির্দিষ্ট উল্লেখ থাকিবে বা যে এলাকায় তার স্বার্থ বিদ্যমান আছে তা উল্লেখ থাকিবে বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো নিয়মে বর্ণিত থাকিবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) ও (২) এ উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তির আকার ঐরূপ হইবে ও বিবরণী ঐরূপ থাকিবে যা নিরূপন বা নির্ধারণ করা যাইবে।
উপধারা-(৪)উপধারা (১) অনুযায়ী প্রচলিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে-
(ক)বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এস্টেট,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্বে নিহিত স্বার্থ, খাস দখলীয় সকল সম্পত্তিতে নিহিত স্বার্থ, ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্তঃভূমিতে এবং মাটির নীচে অবস্থিত খনিতে বিদ্যমান সমস্ত স্বার্থ ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে খাজনা আদায়ের নিমিত্ত অফিস অথবা কাচারী হিসেবে ব্যবহৃত দালান অথবা দালানের অংশে বিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ দায়হীনভাবে সরকারের উপর চুড়ান্তরূপে বর্তাইবে।
শর্ত থাকে যে, এই দফায় উল্লেখিত কোনো কিছুই সংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপকের বসতবাড়ীতে অবস্থিত দালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(খ)উপধারা (১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যে সমস্ত বকেয়া খাজনা, সেস ও ঐগুলির সুদ বৈধভাবে খাজনা প্রাপকের নিকট কালেক্টরের পাওনা ছিল সেগুলি আদায়যোগ্য হইবে ও আদায়ের অন্যান্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাহাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে।তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে বকেয়া খাজনা, সে এবং ঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়া নেয়া হইবে।
(গ)উপধারা (১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যে সকল বকেয়া খাজনা, সেস এবং ঐগুলির সুদ খাজনা প্রাপকের প্রাপ্য ছিল তা উক্ত তারিখে তামাদি হইয়া না গিয়ানা থাকাকালে সরকার কর্তৃক আদায়যোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে এবং আদায়ের অন্যান্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক কালেক্টরের আদেশে যে ব্যক্তির উক্তঅর্থপাওনাছিল তাহাকে যখন ক্ষতিপূরণ (যদি পাওনাথাকে), প্রদান করা হইবে তখন তা হতে বকেয়া খাজনা, সেস এবং ঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়ালওয়া হইবে।(ঘ)উপধারা (১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহলের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৮৮২ সালের বেঙ্গল ইমব্যাংকমেন্ট এ্যাক্ট বা ১৯৫২ সালের ইস্ট বেঙ্গল ইমব্যাংকমেন্ট এন্ড ড্রেইনেজ এ্যাক্ট মোতাবেক খাজনা প্রাপকের নিকট যদি কোনো বকেয়া অর্থ অথবা ভবিষ্যতের কিস্তি পাওনা থাকে তাহলে আদায়ের অন্যান্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া অর্থ এবং ভবিষ্যতের কিস্তির অর্থ কেটে নেয়া হবে।
(ঘঘ)উপধারা (১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক যদি খাজনা প্রাপকের নিকট কোনো বকেয়া কৃষি আয়কর সরকারের পাওনা থাকে তবে আদায়ের অন্যান্য উপারের বিপরীত কোন কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া কাটিয়া রাখা হইবে।
(ঙ) এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি যে সমস্ত প্রজা (১) উপধারার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত খাজনা প্রাপকের প্রত্যক্ষ অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ করিত তাহারা প্রত্যক্ষভাবে সরকারের প্রজা বলিয়া গণ্য হইবে এবং খাজনা প্রদানযোগ্য ভূমি অধিকারে অথবা দখলে রাখার নিমিত্তে প্রচলিত হারে সরকারকে খাজনা খাজনাপ্রদান করিবে,অপর কোনো ব্যক্তিকে নহে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯৫৭ সালের পূর্ব বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) অধ্যাদেশ বলবত্‍ হওয়ার পূর্বে ৪৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে নিহিত খাজনা প্রাপকের স্বার্থের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি সেক্ষেত্রে এ সমস্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অধিকারী খাজনা প্রাপকের সরাসরি অধীনস্থ প্রজা ঐ সমস্ত ভূমি খাজনামুক্ত ভূমি ছাড়া অধিকারে রাখার জন্য ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ও ৫৩ ধারা অনুযায়ী সংশোধনকৃত স্বত্বলিপিতে নির্ধারিত হারে খাজনা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চ)উপধারা (২) অনুযায়ী যে সকল খাসভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি সেই সমস্ত ভূমি খাজনা প্রাপকগণ সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজা হিসেবে দখলে রাখার অধিকারী হইবে এবং ৫ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত খাজনা সরকারকে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চচ)সিলেট জেলা ছাড়া অপরাপর জেলার ক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী স্বত্বলিপি চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বা ৫ ধারা অনুযায়ী খাজনা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত (ঙ) দফার শর্তে ও (চ) দফায় বর্ণিত প্রজাগণ ৪র্থ অধ্যায় মতে প্রণয়নকৃত বিধি অনুযযায়ী প্রাথমিক খাজনার বিবরণীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকে খাজনা প্রদানকরিবে।সিলেট জেলার ক্ষেত্রে (ঙ) দফার শর্তে উল্লেখিত প্রজাগণ ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন বা ১৯৮৬ সালের আসাম ল্যান্ড এ্যান্ড রেভিনিউ রেগুলেশন বা ১৯৫০ সালের বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন মোতাবেক সত্যায়িত খসড়া স্বত্বলিপির উপর ভিত্তি করে প্রণয়নকৃত সাময়িক খাজনার বিপরীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকে খাজনা দিতে হইবে এবং (চ) দফায় বর্ণিত প্রজাগণকে ৫ ধারা ও তদনুযায়ী প্রণীত বিধি অনুসারে নির্ধারিত হারে সরকারকে খাজনা প্রদানকরিতে হইবে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপিতে হ্রাসকৃত হারে বা বির্ধিত হারে উক্ত খাজনা দেখানো হয় বা ৫ ধারা অনুযায়ী হ্রাসকৃত হারে বা বর্ধিত হারে নির্ধারিত হয় বা ৫৩ ধারা অনুযায়ী উক্ত খাজনার পরিমাণ হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রজার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে পূর্বে দেয়া খাজনার পরিমাণ কম হইলে নির্ধারিত খাজনার বাকী অংশ দিতে বাধ্য থাকিবে এবং বেশী হলে অতিরিক্ত খাজনা ভবিষ্যতে প্রদত্ত খাজনার সাথে সমন্বয় সাধন করার অধিকারী হইবে।
(ছ)দফা (ঙ), (চ) ও (চচ) এ উল্লেখিত বকেয়া খাজনা আদায় করার জন্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ১৯১৩ সালের বঙ্গীয় সরকারী দাবি আদায় আইন মোতাবেক আদায়যোগ্য হইবে।(জ)দফা (ঙ) অনুযায়ী যে সকল মধ্যস্বত্ব সম্পূর্ণরূপে ও প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে স্থানান্তরিত হইয়াছে তা ১৯৬৮ সালের বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব বিক্রয় আইন-এর ১ ধারা অনুসারে প্রদত্ত মধ্যস্বত্বের সংজ্ঞার ধারার একই অর্থ বুঝাইবে।
উপধারা-(-ক)আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কিছুথাকাসত্ত্বেও সিলেট জেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (৪) উপধারার (ঙ), (চ) এবং (চচ) দফা মোতাবেক প্রদত্ত বকেয়া খাজনা আদায় করিবার ক্ষেত্রে তামাদি হওয়ার সময়সীমা খাজনা গ্রহণের স্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখ হইতে ২৪ মাস বাদদিয় গণনা করিতেহইবে ।
উপধারা-(৫)বিদায়ী খাজনা প্রাপকরা যাদের স্বার্থ এই ধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে তাহারা এই আইনে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারী হইবে।
ধারা-৩ক(বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ)

 ৩ ধারা অনুযায়ী এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বা খাস দখলীয় ভূমিতে বিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার উক্ত ধারার (১) উপধারা বা (২) উপধারা মোতাবেক উক্ত স্বার্থ অথবা ভূমি সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পূর্বে যে কোনো সময়ে নির্ধারিত উপায়ে খাজনা প্রাপকের উপর নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহে এমন নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরমে নোটিশে নির্দেশিতভাবে নিম্নলিখিত সকল অথবা যে কোনো তথ্য সংবলিত একটি বিবরণী দাখিল করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারেন।
(i)খাজনা প্রাপক কর্তৃক অধিকৃত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বের মোট পরিমাণ এবং বর্ণনা ও বার্ষিক রাজস্ব খাজনা ও সেসসমূহ যাহা সে তাহার ভূমির তাত্‍ক্ষণিক উপরস্থ ভূমির ভূমি মালিককে বা সরকারকে ক্ষেত্র ভেদে প্রদান করিত তাহার বিবরণ;(ii)যে গ্রাম, থানা এবং জেলায় এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নাম ও সেই সঙ্গে তাত্‍ক্ষণিক পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের অধিক নহে সময়ের জন্য ব্যবহৃত খাজনা আদায়ের কাগজপত্রের তালিকা;(iii)খাজনা প্রাপকের খাস দখলীয় সকল ভূমি যে গ্রাম এবং যে থানায় অবস্থিত তাহার নামসহ ভূমির পরিমাণ, বর্ণনা ও শ্রেণীবিন্যাস;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বের অন্যান্যসহ অংশীদারগণ যাহারা যৌথভাবে খাজনা প্রাপকের সঙ্গে খাজনা আদায় করিত তাহাদের নাম এবং নির্ধারিত অংশসমূহের বিবরণ; ও
(v) উক্তরূপ অন্যান্য বিবরণ যাহা রাজস্ব অফিসার প্রয়োজন মনে করেন।


ধারা-(বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ প্রদান ও নির্দেশ পালন না করার জন্য দন্ড)
উপধারা-(১): ৩(১) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যতশীঘ্র সম্ভব রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত পন্থায় খাজনা প্রাপক যাহার সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডসআইন ১৮৭৯ মোতাবেক কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর পরিচালনাধীন রহিয়াছে সেছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত প্রত্যেক খাজনা প্রাপককে নোটিশ জারির মাধ্যমে দাখিল করার নিমিত্ত নির্দেশ দিতে পারেন-
(ক)নির্ধারিত ফরমে একটি বিবরণী যাতে দেখাতে হবে-
(i)উক্ত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা যে সকল এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে তার স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার মোট পরিমাণ ও বর্ণনা এবং সেগুলির বার্ষিক খাজনা ও সেস, যা সে ভূমির উপরস্থ ভূ-স্বামী অথবা সরকারকে,ক্ষেত্র ভেদে প্রদান করত তার বর্ণনা;(ii)যে গ্রাম, থানা ও জেলায় এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নাম এবং প্রত্যেক গ্রামের খাজনা ও সেস, কর বাবদ মোট বার্ষিক দাবির পরিমাণ ও দাবির সমর্থনেদাবীআদায়ের কাগজপত্রের তালিকা।
(iii)তার খাস দখলীয় ভূমির পরিমাণ এবং বর্ণনা;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের খাজনা গ্রহীতার সাথে যৌথভাবে খাজনা আদায়কারীর সহ-অংশীদারদের নাম ও নির্ধারিত অংশসমূহ; এবং
(খ)রাজস্ব অফিসারের প্রয়োজন অনুযায়ী অপরাপর বিবরণ, কাগজপত্র বা দলিলপত্র এবং নোটিশে উল্লখিত অফিসারের নিকট নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহেএরূপ সময়ে উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার সমস্ত কাগজপত্র;
শর্ত থাকে যে, ৩ক ধারা মোতাবেক নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্ত বিবরণ দাখিল করা হয়েছে তাহা সঠিকভাবে প্রদত্ত হইয়াছেবলিয়া রাজস্ব অফিসার মনে করিলে খাজনা প্রাপককে আর বিবরণী দাখিল করিতে হইবে না।
উপধারা-(২):উপধারা (১) এ বর্ণিত কাগজপত্র যে অফিসার গ্রহণ করিবেন তিনি হস্তান্তরিত কাগজপত্রের জন্য রশিদ প্রদান করবেন ।
উপধারা-(৩):যৌথভাবে আদায়কারী সকল সহ-অংশীদার যৌথভাবে অধিকৃত এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক এই ধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক নোটিশে প্রদত্ত নির্দেশসমূহ পালন করিবার নিমিত্তে যৌথ ও এককভাবে দায়ী থাকিবে।
উপধারা-(৪):এই ধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক যাহার উপর নোটিশ দেয়া হইয়াছে সেই ব্যক্তি যদি নোটিশে উল্লেখিত সময় বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত নোটিশে উল্লেখিত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সকল বা কোনো নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইয়াথাকে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশন করে বা কোনো তথ্য, কাগজপত্র বা দলিল গোপন করিয়াথাকেতবে-
(ক)সেই ব্যক্তি শুনানীর সুযোগ অন্তে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ধার্যকৃত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবেন, যাহা-
(i)রাজস্ব প্রদানের আওতাভুক্ত এস্টেটের বা খাজনা প্রদানের আওতাভুক্ত তালুক,রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে এস্টেটের বার্ষিক রাজস্ব বা তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের বার্ষিক খাজনার পাঁচ গুণ,অবস্থাভেদে বর্ধিত হইতে পারে; এবং
(ii)রাজস্বমুক্ত এস্টেটের বা খাজনামুক্ত তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার তার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে ২,৫০০/- টাকার বেশী নয় এরূপ যে কোনো পরিমাণ অর্থ পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারেন।
(খ)এতদ্ব্যতীত রাজস্ব অফিসার কর্তৃক নিদেশিত হইলে সে ৬ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত অন্তবর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা হইতে বঞ্চিত হইতে পারে।
উপধারা-(৫):(i)উপধারা (১) মোতাবেক যার উপর নোটিশ জারি করা হইয়াছে সেই খাজনা প্রাপক নোটিশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ দ্বারা মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে যদি নোটিশে উল্লেখিত নির্দেশ অনুযায়ী তাহার এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজস্ব অফিসার বা তত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোনো ব্যক্তি প্রয়োজন মনে করিলে সহায়তাসহ যে কোনো ভূমিতে বা দালানকোঠায়, যেখানে ঐ সমস্ত কাগজপত্র পাওয়া যাইবে বলিয়া রাজস্ব অফিসারের বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছেসেখানেপ্রবেশ করিতে পারেন এবং উক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব জোত বা প্রজাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা করার নিমিত্ত যে সমস্ত কাগজপত্র দরকার বলিয়া তিনি বিবেচনা করিবেন সেই সমস্ত কাগজপত্র জব্দ করিতে এবং দখলে লইতে পারেন;
শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসার অথবা ঐরূপ অন্য কোনো ব্যক্তি দালান সংলগ্ন আবদ্ধ উঠান অথবা বাগানে উক্ত উঠান বা বাগানের বাসিন্দা অথবা দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত বা যদি উক্ত সম্মতি দিতে অস্বীকার করা হয় তবে উক্ত বাসিন্দা অথবা দখলকারীকে তাহার উদ্দেশ্য সম্বলিত লিখিত দুই ঘন্টার নোটিশ প্রদান ব্যতীত প্রবেশ করিবেন না;
আরও শর্ত থাকে যে, এই উপধারা মোতাবেক যে সমস্ত কাগজপত্র রাজস্ব অফিসার অথবা অপর কোনো ব্যক্তি কর্তৃক দখলে নেয়া হইবে তার একটি তালিকা রাজস্ব অফিসার সংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপককে প্রদান করিবেন।(ii)উপধারা (৪) এর বিধানের হানিকর কিছুনা করিয়াথাকিলেএ উপধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৬):খাজনা প্রাপক যে এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র (১) উপধারা মোতাবেক সরকারের কোনো অফিসারের নিকট হস্তান্তর করিয়াছে সে বা উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পন্থায় উক্ত কাগজপত্র পরিদর্শন করার অধিকারী হইবে ও নির্ধারিত ফিস প্রদান করিয়া উক্ত কাগজপত্রের অনুলিপি পাওয়ারও অধিকারী হইবে।


ধারা-৫ (খাজনা প্রাপকের খাস ভূমির খাজনা নির্ধারণ)

৩(১) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর যথাশীঘ্র সম্ভব রাজস্ব অফিসার ২৩, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৬, ২৭ এবং ২৮ ধারায় বর্ণিত নীতিসমূহ মোতাবেক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ও বিজ্ঞপ্তির সাথে সম্পর্কিত ভূ-সম্পত্তি,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বসমূহে অবস্থিত সকল খাজনা প্রাপকগণের খাস দখলীয় প্রত্যেক ভূমি খন্ডের খাজনা নির্ধারণ করিবেন।
ধারা-৬ (অন্তর্বর্তীকালীন পরিশোধ)

উপধারা-(১):৩ ধারার (১) উপধারার অধীনে কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে কোনো খাজনা প্রাপকের স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইলে সে বিজ্ঞপ্তির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত পন্থায় তার ঐরূপ স্বার্থের জন্য তাহার ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বসমূহ যাই হোক ইহাতে খাজনা ও সেস বাবদ বার্ষিক যে আয় হইত সে তাহার এক তৃতীয়াংশ পাবে।
উপধারা-(২):কোনো খাজনা প্রাপক যাহার খাস ভূমি ৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সে বিজ্ঞপ্তির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময় ও পন্থায় ৩৯ ধারার (১) উপধারায় যে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত হইবে তাহার ৫% অর্থ বার্ষিক অন্তর্বর্তীকালীন পাওনা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হইবে এবং ঐ ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণের জন্য ঐরূপ ভূমির বাবদ ৩৯ ধারার (২) (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৩):উপধারা (১) এর উদ্দেশ্যে কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের কোনো বছরের প্রকৃত আয় নিরূপণ করার সময় উক্ত ভূ-সম্পত্তি,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব হইতে সরকার ৩ ধারার (২) উপধারায় অধিগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে খাজনা ও সেস বাবদ যে স্থূল বা মোটঅংকেরটাকা আদায় করিয়াছেন তাহা হইতে নিম্নলিখিত অর্থসমূহ বাদ দেয়া হইবে-
(i)বিজ্ঞপ্তির তারিখের অব্যবহিত পূর্বে সরকার বা উপরস্থ ভূ-স্বামীকে ঐ সকল স্বার্থের জন্য বার্ষিক রাজস্ব বা খাজনা এবং সেস হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করার নিমিত্ত নির্ধারণ করা হইত বাহয় সেই পরিমাণ সেই পরিমাণ অর্থ;(ii)যেখানে ৩ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইত না সেক্ষেত্রে বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন ১৯৪৪ বা আয়কর আইন ১৯২২ মোতাবেক ঐ আদায়ের উপর যে পরিমাণ খাজনা ধার্য করা হইত তার গড় হারের সমপরিমাণ অর্থ;(iii)বিদায়ী খাজনা প্রাপক যদি আইনানুগভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে বাধ্য থাকিত তবে উক্ত ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের সেচ অথবা রক্ষণমূলক কাজের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হ'ত, যদি থাকে,সেই পরিমাণ অর্থ; এবং
(iv)আদায় চার্জ বাবদ মোট আদায়ের শতকরা বিশ ভাগের বেশী নয় এরূপ পরিমাণ অর্থ।
ব্যাখ্যাঃ এই উপধারায় গড় হার বলিতে বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন, ১৯৪৪ বা আয়কর আইন, ১৯২২-এর বিধান মোতাবেক বিজ্ঞাপিত তারিখের পূর্বে শেষ বারের মত নির্ধরিত খাজনার গড় হারকে বুঝায়।
উপধারা-(৪)উপধারা (৩) এর অধীনে যে পরিমাণ অর্থ বাদ দেয়া হইবে তা নির্ধারণের জন্য রাজস্ব অফিসার সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবেন।
উপধারা-(৪ক)উপধারা (১) (৩) এবং (৪) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত সময়ে এবং পন্থায় ঐরূপ যে কোনোখাজনা প্রাপককে যে বছরের বাবদ (খ) উপধারা মোতাবেক অন্তবর্তীকালীন অর্থ পাওনা ছিল কিন্তু উক্ত উপধারা মোতাবেক তাহা প্রদান করা হয়নি, উক্ত (১) উপধারায় উল্লেখিত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদানের পরিবর্তে ৩৫ বা ৩৬ ধারার অধীনে নির্ধারিত ৪২ ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ বিবরণীতে ৫৪ ধারার অধীনে সংশোধন সাপেক্ষে চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ঐরূপ স্বার্থের প্রকৃত আয়ের এক ষষ্ঠাংশ হারে নগদ অর্থ প্রদান করিতে পারিবেন।
উপধারা-(৫)এই ধারার কোনো কিছুই ওয়াকফ,ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছির অধীনস্থ কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক রায়তিস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্ব বা ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
ধারা-৬ক(অছির অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদান)
উপধারা-(১)যে খাজনা প্রাপকের ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছির অধীন এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান স্বার্থ ৩ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হইতে নির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত নিয়মে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত বার্ষিক অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা হিসেবে নিম্নবর্ণিত নগদ অর্থ পাওয়ার অধিকারী হইবে-
(i)এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের প্রকৃত আয়ের যতখানি ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া দাতব্য এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ এবং প্রয়োগ করা হইয়াছে ততখানির সমকক্ষ বার্ষিক বৃত্তি;(ii)দফা (i)মোতাবেক বাষিক বৃত্তি বাদ দেয়ার পর উক্ত এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের প্রকৃত আয়ের কোনো অংশ অতিরিক্ত থাকে সেই প্রকৃত আয়ের অংশ বাবদ ৩৭ ধারার (৩) উপধারা মোতাবেক যতখানি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাইবে তার ৩% হারে নির্ধারিত অর্থ।
উপধারা-(২)উপধারা (১) এর দফা (i)এ উল্লেখিত বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ ৩৭ ধারার (৩) উপধারা মোতাবেক স্থায়ী বার্ষিক বৃত্তি নির্ধারণের নিমিত্ত যে নিয়ম বর্ণিত আছে উক্ত একই পদ্ধতিতে তা নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ৫৮(৪) উপধারা এবং ৫৯(৪) উপধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) এর (ii)দফার নিমিত্ত ৬ ধারার (৩) ও (৪) উপধারায় উল্লেখিত নিয়মে প্রকৃত আয় নির্ধারণ করা হইবে।
উপধারা-(৪)যে খাজনা প্রাপকের ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছির অধীন খাস ভূমি ৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত নিয়মে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত বার্ষিক অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা হিসেবে নিম্নলিখিত নগদ অর্থ পাওয়ার অধিকারী হইবে-
(i)ভূমির আয়ের যতখানি ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া দাতব্য এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ এবং প্রয়োগ করা হয়েছে ততখানির সমপরিমাণ বার্ষিক বৃত্তি; এবং
(i) উক্ত ভূমির প্রকৃত আয়ের অবশিষ্ট অংশ, যদি থাকে বাবদ ৩৯ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক যতখানি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে তার ৩% হারে নির্ধারিত অর্থ এবং উক্ত অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে উক্ত ধারার (২), (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৫)উপধারা (৪) এর (i)দফায় উল্লেখিত বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ ৩৯ ধারার ১(ক) উপধারা মোতাবেক স্থায়ী বার্ষিক বৃত্তি নির্ধারণের যে নিয়ম বর্ণিত আছে সেই নিয়ম মোতাবেক নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ৫৮ ধারার (৪) উপধারা এবং ৫৯ ধারার (৪) উপধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে।
ধারা-৭ (আপিল)কোনো ব্যক্তি যদি ৪ ধারার (৪) উপধারা অথবা ৫ ধারায় প্রদত্ত রাজস্ব অফিসারের কোনো আদেশ দ্বারা ক্ষুব্ধ হন বা ৬ অথবা ৬ক ধারা মোতাবেক রাজস্ব অফিসার কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন নির্ধারিত অর্থ প্রদানের আদেশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হন তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিত উপায়ে নির্ধারিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আপিল পেশ করিতে পারেন এবং উক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কেবল উক্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বর্ণিত এবং উপধারাসমূহের অধীনে প্রদত্ত রাজস্ব অফিসারের উক্ত আদেশ চুড়ান্ত হইবে।
ধারা-(এই অধ্যায়ের অধীনে আরোপিত জরিমানা পরিশোধ ও আদায়)

এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো ব্যক্তিকে জরিমানা করা হলে রাজস্ব অফিসার যে তারিখে জরিমানা করে আদেশ প্রদান করেন সে তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে বা যেক্ষেত্রে ঐরূপ আদেশের বিরুদ্ধে ৭ ধারা অনুযায়ী কোনো আপিলদায়ের করা হয় তবে উক্ত আপিল নিষ্পত্তির তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে নির্ধারিত উপায়ে তিনি তা পরিশোধ করিবেন এবং ঐরূপভাবে উক্ত জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা সরকারী দাবি আদায় আইন ১৯১৩-এর অধীনে সরকারী দাবি হিসেবে আদায়যোগ্য হইবে।
ধারা-৯ (বাতিল)
ধারা-১০(অন্তর্বর্তীকালীন প্রাপ্য অর্থ ক্রোকমুক্ত)

১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি ও ১৯১৩ সালের সরকারী দাবি আদায় আইনে ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও ৬ ধারার (১) ও (২) উপধারা বা ৬ক ধারার (১) বা (৪) উপধারা মোতাবেক বিদায়ী খাজনা প্রাপক যে অন্তর্বর্তীকালীনঅর্থ প্রাপ্য হয় তা দেওয়ানী আদালতের কোনো ডিক্রী অথবা আদেশ অথবা সার্টিফিকেট জারি করার নিমিত্ত ক্রোক করা চলিবে না যদি না উক্ত ডিক্রী অথবা সার্টিফিকেট কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্ব বা ভূমির বকেয়া রাজস্ব, খাজনা অথবা সেস আদায়ের নিমিত্ত দেয়া হইয়া থাকে।
ধারা-১০ক(ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর অথবা অন্যান্য ধর্মীয় অছির অধীনস্থ কতিপয় খাজনা গ্রহণের স্বার্থ-সম্পর্কিত বিশেষ বিধানসমূহ)
উপধারা-()ধারা ৩ এর (৪) উপধারার (ঙ) এবং (চচ) দফাসমূহে বা ৬ক ধারায় ভিন্ন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই ধারার বিধানসমূহ সেই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে যেক্ষেত্রেওয়াকফ,ওয়াকফ-আল আওলাদ দেবোত্তর অথবা অন্যান্য ধর্মীয় অছির অধীনস্থ খাজনা প্রাপকের স্বার্থ ৩ ধারার (১) উপধারা বা (২) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে, কিন্তু ১৯৬০ সালের পূর্ব বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তারিখ পর্যন্ত উক্ত স্বার্থের অধীনস্থ ভূমি অধিকারে রাখার নিমিত্তে প্রজাদের নিকট হইতে খাজনা অথবা সেস কর আদায়ের মধ্য দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে সরকার ঐ সমস্ত সম্পত্তির উপর দখলের অধিকার প্রয়োগ করেনি।
উপধারা-(২)উক্ত স্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখে বা তারিখ হইতে মোতাওয়াল্লি বা সেবাইত বা অছিদার, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়, উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে অধিকৃত সম্পত্তি কৃষি বছরের শেষ দিন যে দিন ৭৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক উক্ত স্বার্থ সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলিয়া বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে সেই দিন পর্যন্ত বা উক্ত সম্পত্তিতে সরকার দখলের অধিকার প্রয়োগ না করা পর্যন্ত, যা পরে ঘটিবে,সেই পর্যন্ত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালনা করিবে বা পরিচালনা করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(৩)উক্ত মোতাওয়াল্লী, সেবাইত অথবা অছিদার সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে (৪) উপধারায় উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে ও উল্লেখিত হারে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রজা কর্তৃক প্রদত্ত সকল খাজনা এবং সেস কর ও খাস জমির ফসলের ভাগ উক্ত স্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখ হতে কৃষি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত বা উপধারা-২মোতাবেক বর্ণিত দখলের অধিকার প্রয়োগ না করা পর্যন্ত, যা পরে সংঘটিত হবে সেই পর্যন্ত আদায়ের অধিকারী হইবে এবং সে ৬ক ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদান এবং তার মজুরীর পরিবর্তে আদায়কৃত ফসলের বিক্রয়লব্ধ অর্থ এবং অন্যান্য আয় অধিকারে রাখিবে এবং নিম্নেবর্ণিত অর্থের কম পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত নিয়মে বার্ষিক হারে সরকারকে প্রদান সাপেক্ষে-
(ক)যে পরিমান অর্থ ঐসমস্ত অধিগ্রহণের অব্যবহিত আগে বার্ষিক রাজস্ব বা খাজনা ও সেস কর বাবদ সরকারকে অথবা উপরস্থ জমিদারকে, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়,প্রদানের নিমিত্ত কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত হয় বা হইত; এবং
(খ) যে পরিমান অর্থ ঐ সমস্ত স্বার্থ অধিগ্রহণ না করা হলে ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক ঐ সমস্ত স্বার্থ হতে আগত আয়ের উপর কর নির্ধারণযোগ্য হইত;
শর্ত থাকে যে,(i)কোনো মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদার অস্থায় ইজারা ছাড়া অপর কোনো নিয়মে খাস ভূমিতে নিহিত কোনো স্বার্থ হস্তান্তর বা দায় বা চার্জ সৃষ্টি করার অধিকারী হবে না; উক্ত অস্থায়ী ইজারা যে বছর সৃষ্টি করা হইয়াছে সেই বছরের শেষ কারিখে এক বছরের অতিরিক্ত সময়ের জন্য এক সঙ্গে প্রদান করা হইবে না;কালেক্টরের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এবং কালেক্টর কতৃর্ক এই ব্যাপারে নির্ধারিত শর্ত পালন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যাইবেনা অথবা কোনো ইমারত ধ্বংস করা যাইবেনা; ঐসকল শর্তের পরিপন্থী কোনো হস্তান্তর বা দায় বা চার্জ সৃষ্টি করা হলে অথবা কোনো ইজারা দেয়া হলে তা বাতিল বলিয়াগণ্য হইবে ও শর্তের পরিপন্থীভাবে যে গাছ কাটা হয়েছে বা যে ইমারত ধ্বংস করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ মূণ্য উক্ত মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদারের নিকট হইতে বকেয়া খাজনা অথবা ভূমির রাজস্ব হিসেবে উদ্ধারযোগ্য হইবে।
(i)(i)কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত যে পরিমাণ অর্থ স্বার্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত আগে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদারের সরাসরি অধীনে ১৮৮০ সালের বঙ্গীয় সেস কর আইন মোতাবেক পথ এবং গণপূর্ত সেস করবা ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় কর রেগুলেশন মোতাবেক স্থানীয় কর প্রজাগণের দ্বারা বার্ষিক হারে প্রদানযোগ্য ছিল সেই পরিমাণ অর্থ (ক) দফায় বর্ণিত অর্থ হতে বাদ যাইবে এবং তা বাংলা ১৩৬৭ সালের ১লা বৈশাখ হতে কার্যকর হইবে।
(iii)যে ক্ষেত্রে (১) উপধারায় উল্লেখিত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো মোতাওয়াল্লি,সেবাইত অথবা অছিদার উক্ত স্বার্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে কোনো রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের কারণে সরকারের নিকট হইতে বা এমন খাজনা প্রাপকের নিকট হইতে যার উক্ত রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বে নিহিত স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এবং দখল লাভ করা হইয়াছে সে ক্ষেত্রে উক্ত মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদার এই ধারা মোতাবেক সরকারের কাছে তার বার্ষিক আয়ের সঙ্গে সেই পরিমাণ অর্থের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করার অধিকারী হইবে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত যে পরিমাণ অর্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত রায়তিস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের কারণে বার্ষিক খাজনা এবং সেস কর হিসেবে তার প্রাপ্য ছিল; কিন্তু ১৮৮০ সালের বঙ্গীয় সেস কর আইন মোতাবেক পথ ও গণপূর্ত সেস কর বা ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় কর রেগুলেশন মোতাবেক স্থানীয় কর ১৩৬৭ বাংলা সালের ১লা বৈশাখ হইতে আয় সমন্বয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হইবে না এবং সমন্বয়ের নিমিত্ত যদি বার্ষিক মোট অর্থের পরিমাণ এই ধারায় উল্লেখিত মোট বার্ষিক আয় অপেক্ষা বেশী হয় তবে অতিরিক্ত অর্থ কোনো আইন অথবা চুক্তি অনুযায়ী তার নিকট অপর কোনো সরকারী পাওনা থাকলে তা কেটে নেয়ার পর বাকী অর্থ সরকারের নিকট হইতে পাওয়ার অধিকারী হইবে।
ব্যাখাঃ ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক অধিগ্রহণের তারিখের আগে শেষবার যে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল তার গড় হার বের করিয়া (খ) দফার জন্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাইবে।
উপধারা-(৪)অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে খাজনা প্রদান সাপেক্ষে ভূমির অধিকারী (৩) উপধারায় উল্লেখিত প্রজাগণ ৪৩ ধারা মোতাবেক সংশোধন সাপেক্ষে ১৯ ধারার (৩) উপধারা মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে নির্ধারিত হারে উক্ত ভূমির খাজনা পরিশোধের জন্য দায়ী হইবে;
শর্ত থাকে যে, উক্ত প্রজাগণ চুড়ান্তভাবে খতিয়ান প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চতুর্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রণয়নকৃত বিধিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক খাজনার বিবরণীতে উল্লেখিত হারে উক্ত ভূমির খাজনা প্রদান করিবে; এবং যে ক্ষেত্রে উক্ত প্রাথমিক খাজনার বিবরণী প্রণয়ন করা হয়নি সেক্ষেত্রে উক্ত প্রাথমিক খাজনার বিবরণী প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে যে হারে প্রচলিত ছিল সে হারে খাজনা প্রদান করিবে।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে হ্রাসকৃত হারে বা বর্ধিত হারে উক্ত খাজনা প্রদর্শিত হয় বা ৪৩ ধারা মোতাবেক উক্ত খাজনার পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রজার পূর্বে দেয়া খাজনার পরিমাণ কম হলে নির্ধারিত খাজনার বাকী অংশ দিতে বাধ্য থাকিবে এবং বেশী হলে অতিরিক্ত খাজনার ভবিষ্যতে প্রদত্ত খাজনার সাথে পূর্ব হইতে বলবত্‍‍যোগ্যরূপে সমন্বয় সাধন করার অধিকারী হইবে।
উপধারা-(৫)এই ধারা মোতাবেক প্রজার নিকট হইতে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের আদায়যোগ্য বকেয়া খাজনা ও সেস কর সরকারী পাওনা হিসেবে পুনরুদ্ধারযোগ্য হইবে এবং উক্ত মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের ১৯১৩ সালের সরকারী দাবি আদায় আইন মোতাবেক উক্ত বকেয়া আদায়ের নিমিত্ত নির্ধারিত নিয়মে সার্টিফিকেট কর্মকর্তার টিকট দরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(৬)উপধারা (৪) অনুযায়ী কোনো প্রজা অতিরিক্ত খাজনা প্রদান করিলে প্রদত্ত সেই খাজনা হইতে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের পরিচালানাধীন সময়ে পরবর্তীকালে তত্‍কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা উক্ত উপধারা মোতাবেক সমন্বয় করার পর অবশিষ্ট অর্থ উক্ত মোতাওয়াল্লি,সেবাইত বা অছিদার সরকারকে পরিশোধ করিবে।
উপধারা-(৭)উপধারা (৩) বা (৬) মোতাবেক যে অর্থ মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার কতৃর্ক সরকারকে প্রদানযোগ্য ছিল তা সরকারী পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য হইবে।
উপধারা-(৮)উপধারা (৫) মোতাবেক কোনো সার্টিফিকেট অফিসার কর্তৃক আদায়কৃত বকেয়া খাজনা এবং সেস করা (৩) অথবা (৬) উপধারা মোতাবেক বকেয়া সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট মোতাওয়াল্লি,সেবাইত বা অছিদারকে দেয়া হইবে।
উপধারা-(৯)এই আইনের কোনো স্থানে বা আপাততঃ বলবত্‍  কোনো আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও উপধারা (৪) মোতাবেক কোনো প্রজা কতৃর্ক প্রদত্ত বকেয়া খাজনা এবং সেস কর আদায়ের সময়সীমা গণনা করার ক্ষেত্রে উক্ত বকেয়া পাওনার সাথে সংশ্লিষ্ট খাজনা গ্রহণের স্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখ হইতে চব্বিশ মাস সময় বাদ দিতে হইবে।
উপধারা-(১০)প্রত্যেক মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার নির্ধারিত ফরম-এ এবং নির্ধারিত সময়ে এই ধারা মোতাবেক আগের বছরে তত্‍তৃর্ক আদায়কৃত খাজনা এবং সেস কর দেয়া সত্ত্বেও উক্ত আদায়কৃত অর্থ হতে তত্‍কতৃর্ক ব্যয়কৃত অর্থের হিসাবে সমন্বিত একটি বিবরণী কালেক্টরের কাছে দাখিল করিবে।
উপধারা-(১১)কোনো আদালত কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক কোনো সম্পত্তি সম্পর্কিত এই ধারারয় বর্ণিত সুবিধার নিমিত্ত দাবি বা উক্তরূপ সুবিধার অধিকারী তাহার জন্য ঘোষণার উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত কোনো মামলা অথবা দরখাস্ত গ্রহণ করিবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তি কালেক্টরের নিকট দরখাস্ত না করেন এবং কালেক্টর সেই ব্যক্তি উক্ত সুবিধার অধিকারী নয় বলিয়া চুড়ান্ত আদেশ প্রদান না করেন;
শর্ত থাকে যে, উক্ত দরখাস্ত দায়েরের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে যদি কালেক্টর কতৃর্ক চুড়ান্ত আদেশ প্রদান না করা হয় তবে উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়েরের অধিকারী হইবে।


তৃতীয় খন্ড
তৃতীয় অধ্যায়
চাকুরীর বিনিময়ে ভূমি ভোগ সম্পর্কে বিশেষ বিধানসমূহ
ধারা-১১দখলী অধিকারসমূহ অর্জন)
উপধারা-(১)আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তার সেবার বিনিময়ে কৃষি বা ফলচাষ বা বসবাসের প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তির অধীনে ভূমি অধিকারে রাখে বলে স্থানীয়ভাবে নানকর, চাকরান অথবা অনুরূপভাবে পরিচিত সেই ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখে অথবা তারিখ হইতে যার অধীনে ভূমি অধিকারে রাখে তাহাকে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা প্রদান সাপেক্ষে ঐ ভূমিতে দখলী অধিকার অর্জন করিবে এবং ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ও ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের যতটা দখলী রায়তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ততটা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(২)উপধারা (১) এ উল্লেখিত যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা বলতে ঐরূপ খাজনাকে বুঝায় যা দখলীয় রায়ত কতৃর্ক প্রদত্ত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সংবলিত একই গ্রাম অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামের ভূমির জন্য ঐরূপ প্রজা ও তার ভূ-স্বামীর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃত খাজনা বা চুক্তির অবর্তমানে প্রজা বা ভূ-স্বামীর আবেদনক্রমে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত প্রচলিত খাজনার হারের বেশী হইবে না।
ধারা-১২ (কোন কোন ক্ষেত্রে প্রচার বসতবাড়ি উচ্ছেদ)
উপধারা-(১)১১ ধারায় ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্তেও যেক্ষেত্রে ঐ প্রচার বসতবাড়ি ভূমির মালিকের বসতবাড়ির মধ্যে অবস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে সে বা তাহার ভূমির মালিক এই আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে উক্ত ভূমির দখল সম্বন্ধীয় মোকাদ্দমা গ্রহণ করার এখতিয়ার বিশিষ্ট দেওয়ানী আদালতে ঐ প্রচার বসতবাড়ি উচ্ছেদ করার আদেশের জন্য দরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(২)উপধারা (১) মোতাবেক দরখাস্ত দায়ের করা হইলে আদালত পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ দান করিয়া যতটুকু যথাযথ মনে করিবেন ততটুকু সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়া এবং অনুসন্ধান করিয়া যদি সন্তুষ্ট হন যে, ঐ প্রজার বসতবাড়ি ভূমির মালিকের বসতবাড়ির মধ্যে অবস্থিত তবে প্রার্থীত আদেশ প্রদান করিবেন।
শর্ত থাকে যে, আদালত যদি দেখেন, ১১ ধারা মাতাবেক বা অন্য কোনো উপায়ে দরখাস্তে বর্ণিত বসতবাড়ি ছাড়া ঐ প্রজা দখলী রায়ত হিসেবে চাষাবাদের নিমিত্ত পাঁচ বিঘার কম ভূমি দখলে রাখে তবে আদালত ভূমির মালিক কতৃর্ক প্রজাকে বিবেচনাপ্রসূত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন অথবা আদালতের মতানুসারে নতুন স্থানে বসতবাড়ি স্থানান্তরের খরচ, অনুরূপ বসতবাড়ি পুনঃনির্মানের খরচ, ঐরূপ নির্মাণের জন্য ভূমির খরচ এবং আদালত কতৃর্ক যথাযথ বিবেচিত অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ নিরূপণ করিবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত ভূমির মালিক প্রজাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত অর্থ আদালতে জমা না দেয় বা প্রজা লিখিতভাবে আদালতে স্বীকার না করে যে, আদালতের বাহিরে ঐ পরিমাণ অর্থ ভূমির মালিকের নিকট হইতে গ্রহণ করিয়াছে ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত উচ্ছেদের আদেশ প্রদান করিবেন না।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) মোতাবেক প্রদত্ত আদেশ ঐ প্রজার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের ডিগ্রী হিসেবে গণ্য হইবে এবং ঐরূপ আদশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলিবে না।

ধারা-১৩ (কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষি ভূমির পুনরুদ্ধার)
উপধারা-(১)যদি কোনো ব্যক্তিকে ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিলের পর দেওয়ানী আদালতের ডিক্রী বা আদেশ বা কালেক্টরের আদেশ বা কালেক্ট কতৃর্ক ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তার আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবে ১১ ধারার (১) উপধারায় সেবার বিনিময়ে নিষ্করভাবে ভোগ দখলকৃত কৃষিচাষ ও ফলের চাষ হতে উচ্ছদ করা হয়েথাকেসেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ঐ ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য কালেক্টরের নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(২)উপধারা (১) মোতাবেক দরখাস্ত করা হইলে কালেক্টর পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করেন ও যতটুকু যথাযথ মনে করিবেন ততটুকু সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়া এবং অনুসন্ধান করিয়া যদি সন্তুষ্ট হন যে,উল্লেখিত তারিখের পরে ভোগ দখলকৃত ভূমি হইতে দরখাস্তকারীকে উচ্ছেদ করা হইয়াছে তবে কালেক্টর দরখাস্তকারীর নিকট উক্ত ভূমি নুপঃরুদ্ধারের জন্য আদেশ প্রদান করিতেও তিনি যথাযথ মনে করিলে পরবর্তী কৃষি বছরের পরে নহে এমন তারিখ হইতে উক্ত আদেশ কার্যকর করিবেন।
উপধারা-(৩) যে ব্যক্তির দখলে উক্ত ভূমি রহিয়াছে সে যদি দরখাস্তকারীর নিকট দখল কার্যকর হওয়ার তারিখে দখল হস্তান্ত না করে তবে কালেক্টর দরখাস্তকারীর আবেদনক্রমে উক্ত ব্যক্তিকে উচ্ছেদ করিয়া ঐ ভূমিতে দরখাস্তকারীকে দখল প্রদান করিবেন।
শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি যদি ভূমির মালিক ছাড়াও অন্য ব্যক্তি হয় তবে সে ভূমির মালিকের নিকট হইতে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত যুক্তিসঙ্গত ক্ষতিপূরণ পাইবে।
উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীনে কৃষি চাষ বা ফলচাষের ভূমি কোনো ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধার করিয়া দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ১১ ধারার বিধানসমূহ ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।


ধারা-১৪(আপিল)১১ ধারার (২) উপধারায় কালেক্টরের আদেশে ক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উক্ত আদেশের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত এলাকার এখতিয়ারবান জেলা জজের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত আপিলে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে।
ধারা-১৫ (বিবিধ)১১ ধারার (২) উপধারায় ১২ ধারার (১) উপধারায় বা ১৩ ধারার (১) উপধারায় কোনো দরখাস্ত নির্ধারিত ফরমে নির্ধরিত বিবরণসহ করিতে হইবে এবং তার সঙ্গে নির্ধারিত প্রসেস ফি জমা দিতে হইবে।
ধারা-১৬(কতিপয় ভূমির অব্যাহতিএই অধ্যায়ের কোনো কিছু চা এস্টেটের সীমানার মধ্যে অথবা অপর কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের সীমানার মধ্যে অবস্থিত ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
 

চতুর্থ খন্ড
চতুর্থ অধ্যায়
স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণ 

 

ধারা-১৭(স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণ)
উপধারা-(১)সরকার এই আইন মোতাবেক কোনো জেলায়, জেলার অংশে বা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনা প্রাপকগণের স্বার্থ এবং এই আইন মোতাবেক ঐ সমস্ত স্থানের ভূমিতে নিহিত অধিগ্রহণযোগ্য অন্যান্য স্বার্থ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে এবং ২য় অধ্যায়ের অধীনে ইতোমধ্যে অধিগৃহীত স্বার্থসহ এই সমস্ত স্বার্থের নিমিত্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই মর্মে আদেশ জারি করিতে পারিবেন যে-
(ক)উক্ত জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার জন্য স্বত্বলিপি তৈরী করিতে হইবে; বা
(খ)১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের দশম অধ্যায় মোতাবেক সর্বশেষ প্রণয়নকৃত ও চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান উক্ত জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার জন্য এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ এবং সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণয়নকৃত বিধিমালা অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা কতৃর্ক রিভিশন বা পরিমার্জন করিতে হইবে।
উপধারা-(২)যদি ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০১ ধারা মোতাবেক বা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ১১৭ ধারা মোতাবেক কোনো জেলা, জেলার অংশ বা স্থানীয় এলাকার জন্য খতিয়ান তৈরীর উদ্দেশ্যে আদেশ করা হইয়া থাকে; কিন্তু খতিয়ান তৈরীর কাজ ম্পন্ন না হয় বা জেলা, জেলার অংশ অথবা এলাকার জন্য খতিয়ান তৈরী অথবা পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে (১) উপধারা মোতাবেক আদেশ দানের সময় ঐ স্বত্বলিপি বা খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হয় তাহা হলে এই আইন মোতাবেক খতিয়ান তৈরীর কার্যক্রম স্থগিত হইবে এবং ঐ খতিয়ান এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ এবং সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণয়নকৃত বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করিতে হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, স্বত্বলিপি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম অধ্যায় বা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ৯ম অধ্যায় মোতাবেক আরম্ভকৃত কার্যক্রম ও ঐ স্বত্বলিপির খসড়া প্রকাশিত হওয়ার আগে ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০৩ ধারার (৪) উপধারা বা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ১১৯ ধারা মোতাবেক যেখানে যাহা প্রযোজ্য হয়, গৃহীত কার্যক্রম এই অধ্যায় মোতাবেক স্বত্বলিপি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এই অধ্যায় মোতাবেক শুরু করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(৩) উপধারা (১) মোতাবেক আদেশের সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তিকে ঐ আদেশ যথাযথভাবে প্রস্তুত হইয়াছে বলিয়া চুড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হইবে।
ধারা-১৮ (যে সকল বিবরণ খতিয়ানে রেকর্ড করিতে হইবে)যখন ১৭ ধারা মোতাবেক কোনো আদেশ প্রদান করা হয় তখন ঐ আদেশ অনুযায়ী প্রণয়নকৃত বা পরিমার্জিত খতিয়ানে রাজস্ব কর্মকর্তা নির্ধারিতবিবরণসমূহ রেকর্ডভুক্ত করিবেন।
ধারা-১৯(খতিয়ানসমূহের খসড়া ও চুড়ান্ত প্রকাশ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে ১৮ ধারায় বর্ণিত বিবরণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার নিমিত্ত একটি স্বত্বলিপি প্রণয়ন করা হয় অথবা পরিমার্জন করা হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত সময়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মে প্রণয়নকৃত এবং পরিমার্জিত খসড়া স্বত্বলিপি প্রকাশ করিবেন ও প্রকাশের সময় যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করা যাইত অথবা বাদ দেওয়া হইয়াছে সেই সম্বন্ধে আপত্তি গ্রহণ ও বিবেচনা করিবেন।
উপধারা-(২)উপধারা (১) মোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তির প্রেক্ষিতে রাজস্ব অফিসার কতৃর্ক প্রদত্ত কোনো আদেশে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি সহকারী সেটলমেন্ট অফিসারের নিম্নতম পদে নহে এরূপ নির্ধারত রাজস্ব কর্র্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত নিয়মে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রে এরূপ সকল আপত্তি এবং আপিল সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহ অনুযায়ী বিবেচিত ও নিষ্পত্তি হইয়াছে সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার চুড়ান্তভাবে স্বত্বলিপি প্রণয়ন করিবেন ও নির্ধারিত নিয়মে ঐ স্বত্বলিপি চুড়ান্তভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন; এবং উক্ত প্রকাশ এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান যথাযথভাবে প্রণয়ন ও পরিমার্জনের জন্যচুড়ান্ত সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-()যেক্ষেত্রে (৩) উপধারা মোতাবেক একটি খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয় সেক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে রাজস্ব বোর্ড কতৃর্ক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজস্ব অফিসার তার চুড়ান্ত প্রকাশনা ও তাহার তারিখ উল্লেখ করিয়া একটি সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন এবং তিনি তাহাতে তারিখ ও পদবীসহ নাম স্বাক্ষর করিবেন।

ধারা-২০(খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক ও অকৃষি প্রজা কতৃর্ক দখলে রাখা ভূমিসমূহ)
উপধারা-(১)৫ম অধ্যায় মোতাবেক খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহনের প্রেক্ষিতে একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক ও অকৃষি প্রজা (২) উপধারায় উল্লেখিত খাস ভূমি ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় খাস ভূমি দখলে রাখার অধিকারী হইবে না।
উপধারা-(২)একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা সরকারের অধীনস্থ প্রজা হিসেবে দখলে রাখার অধিকারী হইবে-
(ক)কোনো এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্বে খাজনা আদায়ের অফিস অথবা কর্মচারী হিসেবে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত ও সরকার কতৃর্ক অধিগ্রহণের জন্য গৃহীত বসত-বাড়ির বাইরে অবস্থিত কোনো দালান অথবা দালানের অংশ ছাড়া বসতবাড়ি বা বসতবাড়ি সংলগ্ন ভূমি;(খ)পরিত্যক্ত চা বাগান ছাড়া নিম্নে উল্লেখিত বিভিন্ন শ্রেণীর খাস দখলীয় ভূমি-
(i)কৃষি চাষ, ফল চাষ অথবা পুকুরের জন্য ব্যবহৃত ভূমি;(ii) চাষযোগ্য বা সংস্কার করার পর চাষযোগ্য ভূমি;(iii)পতিত অকৃষি ভূমিঃ
শর্ত থাকে যে, (ক) ও (খ) দফায় উল্লেখিত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক অধিকৃত ভূমির মোট পরিমাণ ৩৭৫ বিঘা বা তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পিছু দশ বিঘা যা অধিক হইবে, এর অতিরিক্ত হইবে না।
উপধারা-(২ক)আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা কোনো দলিলে বা আদালতের রায় ডিক্রী বা আদেশ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও (২) উপধারার (ক) ও (খ) দফায় উল্লেখিত শ্রেণীভুক্ত ভূমি অন্তর্ভুক্ত করে না বা অন্তুর্ভুক্ত করে না বলে ধরিয়া লওয়াহ্ইবে-
(i)হাট অথবা বাজারে অবস্থিত ভূমি অথবা দালান; অথবা
(ii)সম্পূর্ণভাবে খননকৃত পুকুর ছাড়া মত্‍স্য খামার; অথবা
(iii)বনাঞ্চলের জন্য ভূমি; বা
(iv)ফেরীঘাট হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ব্যবহৃত ভূমি।
 উপধারা-(৩)ধারা ২ এর (৪) উপধারার (খ) দফা মোতাবেক একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থ রায়তী কৃষক, অকৃষি প্রজা যে সকল জমি দখলে রাখার অধিকারী সেই সকল জমির বন্টন ঐ খাজনা গ্রহীতা, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজার ইচ্ছা অনুযায়ী রাজস্ব অফিসারবন্টন করিবেন বা যেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি সেইক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধি অনুযায়ী বন্টন করিবেন।
শর্ত থাকে যে, এই ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণের মাথাপিছু ১০ বিঘা পরিমাণ বা তার কম বা ১০ বিঘার অতিরিক্ত হইলে কমপক্ষে ১০ বিঘা পরিমাণ ভূমি অধিকারে রাখিতে পারিবে এবং ঐ পরিবারে ভূমি বন্টনের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ভূমি দখলে রাখে তার নাম রেকর্ডভুক্ত করিবেন ।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কোনো খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা কোনো ভূমি ১৯৫২ সালের কৃষি উন্নয়ন ফাইন্যান্স কর্পোরেশ এ্যাক্ট মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত কৃষি উন্নয়ন ফাইন্যান্স কর্পোরেশন-এর নিকট বা ১৯৫৭ সালের কৃষি ব্যাংক এ্যাক্ট মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান কৃষি ব্যাংকের নিকট রেহেন রাখিয়াছে সেইক্ষেত্রে এই ধারা মোতাবেক ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষেত্রে (২) উপধারা মোতাবেক সেই সকল শ্রেণীর ভূমি এবং যেই পরিমাণ ভূমি সে অধিকারে রাখিতে পারিবে তাহার মধ্যে ঐ রেহেনকৃত ভূমি অন্তর্ভুক্ত করিতে বাধ্য থাকিবে এবং যেক্ষেত্রে ঐ খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা এই ধারা মোতাবেক ইতঃপূর্বে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছে কিন্তু অতিরিক্ত খাস ভূমি সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি, সেইক্ষেত্রে এই শর্তের বিধানসমূহ অনুযায়ী তাহার ইচ্ছা পরিমার্জন করার প্রয়োজন হইবে।
উপধারা-(৪)উপধারা (২) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা খাজনা প্রাপকগণের বা রায়তী কৃষকগণের বা অধীনস্থ রায়তী কৃষকগণের দল যাহারা সমবায়ের ভিত্তিতে অথবা শক্তি চালিত যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগের অন্যভাবে বৃহদায়তন খামার অথবা বৃহদায়তন দুগ্ধ খামার পরিচালনা করিতেছে তাহারা এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেট সাপেক্ষে, এই উপধারায় নির্ধারিত ভূমির অতিরিক্ত সেই পরিমাণ ভূমি দখলে এবং অধিকারে রাখিতে পারিবে যে পরিমাণ ভূমি রাজস্ব কতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকিবে।
শর্ত থাকে যে, সরকার কতৃর্ক নির্ধারিত বিশেষ বিশেষ সময়ে ঐ সার্টিফিকেট রাজস্ব কতৃর্পক্ষের রিভিশনের আওতায় থাকিবে।
উপধারা-(৪ক)উপধারা (২) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ চা বা কফি চাষ ও উত্‍পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা রাবার চাষের উদ্দেশ্যে ভূমি অধিকারে রাখিলে বা কোনো কোম্পানী চিনি উত্‍পাদনের উদ্দেশ্যে আখ চাষের জন্য জমি অধিকারে রাখিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত রাজস্ব কতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেট সাপেক্ষে এই উপধারায় নির্ধারিত পরিমাণ ভূমির অতিরিক্ত সেই পরিমাণ ভূমি দখলে এবং অধিকারে রাখিতে পারিবে যে পরিমাণ ভূমি রাজস্ব কতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকিবে।
আরও শর্ত থাকে যে, এই উপধারার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত চা বাগানকে চা চাষ এবং উত্‍পাদনের জন্য অধিকৃত ভূমি হিসেবে ধরিয়ালওয়া যাইবে না।
উপধারা-(৪খ)উপধারা (৪) ও (৪ক) বা ৩৯, ৪৩ এবং ৪৪ ধারা বা আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও উপধারা (৪) ও (৪ক) মোতাবেক সার্টিফিকেটের অধীনস্থ ভূমি ঐ তারিখে সরকরের উপর চুড়ান্তভাবে বর্তাইবে যখন উক্ত সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তির উক্ত ভূমি দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে ইজারা গ্রহণের জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার তাহার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, যেখানে সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তি উক্ত ভূমি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণের জন্য ৩৯ ধারা মোতাবেক প্রাপ্য ক্ষতিপূরনের দাবি ত্যাগ করিয়াছে ও উক্ত সার্টিফিকেটের সমাপ্তি ঘটাইয়া কোনো প্রিমিয়াম দাবি না করিয়া ইজারার মধ্যে সরকার কতৃর্ক নির্ধারিতশর্ত সাপেক্ষে ভূমি ৮১ ধারার (১) উপধারার ২য় শর্ত মোতাবেক ইজারা দেয়া যাইবেএকথা উল্লেখ করিয়াছে।
উপধারা-(৫) (i) এই ধারায় (১) (২) এবং (৩) উপধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হবে না-
(ক) বাতিল
(খ)বৃহদায়তন শিল্পের জন্য ব্যবহৃত দালান বা অট্টালিকা ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন এলাকার ভূমিসহ উক্ত শিল্পের কাঁচামালা উত্‍পাদনের জন্য ভূমি; বা
(গ)দেবোত্তর, ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদের অধীনস্থ ভূমির যতটুকু অংশ সম্পূর্ণভাবে উত্‍সর্গীকৃত থাকে ততটুকু ভূমি ও যার আয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের অার্থিক সুবিধার জন্য সংরক্ষণ না করিয়া সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় এবং দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য হয়।
(i)যেক্ষেত্রে দেবোত্তর ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ বা অন্য কোনো ট্রাস্টের অধীনস্থ ভূমি হইতে আগত আয়ের এক অংশ ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ করা হয় এবং এক অংশ কোনো ব্যক্তি বিশেষের আর্থিক সুবিধার জন্য সংরক্ষণ করা হয়,সেক্ষেত্রে ভূমির উক্ত অংশ এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত দফা (i)এর উপদফা (গ) এর আওতাভুক্তহইবে।
ব্যাখাঃ এই ধারার (২) উপধারার উদ্দেশ্যে-
(ক)একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজা পরিবারের সদস্যদিগকে নিয়ে গঠিত দলভুক্ত ব্যক্তিগণকেও অন্তর্ভুক্ত করে বলিয়াধরিয়া লওয়া হয়, এবং
(খ)একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজা সম্পর্কিত পরিবার উক্ত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজা ও একই মেসে বসবাসকারী এবং ঐ খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিগণকে নিয়ে গঠিত হয় ধরিয়া লওয়া হয়, কিন্তু তাহা একই মেসে বসবাসকারী কোনো কর্মচারী অথবা ভাড়াটিয়া শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করিবে না।
উপধারা-(৬)হাট অথবা বাজারে অবস্থিত ভূমি বা বনাঞ্চল, মত্‍স্য খামার অথবা ফেরীর জন্য ব্যবহৃত ভূমির ক্ষেত্রে (৫) উপধারার দফা (i)এর উপদফা (গ) এবং উক্ত উপধারার দফা (ii)এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না অথবা প্রযোজ্য হইবে না ধরিয়া লওয়া হবে।
ধারা-২১(দখলীয় ভূমির খাজনা প্রদান)

কোনো খাজনা প্রাপ্ত, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা ২০ ধারা মোতাবেক যে সমস্ত ভূমি দখলে রাখিয়া তাহার জন্য তাহাকে এই আইনের বিধান মোতাবেক ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা পরিশোধ করিতে হইবে।
ধারা-২২ (সকল ভূমির জন্য এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা প্রদান করতে হবে)
উপধারা-(১)আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের দশম অধ্যায়ের অধীনে সর্বশেষ প্রস্তুত ও চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের কোনো বিবরণে ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো জেলার বা জেলার অংশের বা স্থানীয় এলাকার সমস্ত ভূমি, যা সম্বন্ধে খতিয়ান প্রস্তুত ও পুনঃপরীক্ষণ করা হইয়াছে, এই অধ্যায়ের বিধান অনুসারে নির্ধারিত ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনার জন্য দায়ী থাকিবে এবং উক্তরূপে প্রস্তুত বা পুনঃপরীক্ষণ খতিয়ানে ঐরূপ খাজনা অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
শর্ত থাকে যে, যদি ৫ ধারা মোতাবেক কোনো ভূমির খাজনা ইতিপূর্বে নির্ধারিত হইয়া থাকে তবে এই অধ্যায়ের অধীনে আর খাজনা নির্ধারণ করার প্রয়োজন হইবে না এবং উক্তরূপ নির্ধারিত খাজনা এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক ন্যায় এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্ধারণ করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(২) যেক্ষেত্রে ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ অনুযায়ী নির্ধারিত হইয়াছে কিন্তু তা এই আইনের অন্য কোনো বিধান মোতাবেক কার্যকরী না হয় সেক্ষেত্রে যে এলাকায় উক্ত ভূমি অবস্থিত সেই এলাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী তালিকা ঘোষণা করে ৪৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখের পরবর্তী কৃষি বছরের প্রথম দিন হতে তা কার্যকর হইবে।
ধারা-২৩ (খাস ভূমির যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে একজন রাজস্ব অফিসার ২য় অধ্যায় মোতাবেক যে মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সে সেহ একজন মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারীর খাস দখলীয় ঐ এলাকার স্বত্বলিপিভুক্ত প্রত্যেক খন্ড ভূমির খাজনা নির্ধারণ করিবেন-
(i)যদি ঐরূপ ভূমি কৃষি ভূমি হয় তবে একই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সংবলিত ভূমির জন্য দখলদার রায়তগণ কতৃর্ক সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনার হার বিবেচনা করিয়া রাজস্ব অফিসার যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনার হার নির্ধারণ করিবেন; এবং
(ii)যদি ঐরূপ ভূমি অকৃষি ভূমি হয় এবং তবে রাজস্ব অফিসার নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিয়া যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনার হার নির্ধারণ করিবেন-
(ক)সংলগ্ন এলাকার অনুরূপ সুবিধা ও বর্ণনা সংবলিত অকৃষি ভূমির জন্য সরকারকে বা অন্য কোনো ভূ-স্বামীকে সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনা;(খ)ধারা ১৭ মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে ঐ ভূমির বাজার মূল্য; এবং
(গ) প্রদানযোগ্য খাজনা যাতে নির্ধারিত খাজনার হার বাজার মূল্য অপেক্ষা শতকরা এক ভাগের বেশী না হয়;
ঐরূপ মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী ২০ ধারা মোতাবেক উক্ত খন্ড ভূমি দখলে রাখার অধিকারী হউক বা না হউক।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কোনো এস্টেট, তালুক বা মধ্যস্বত্বের ক্ষেত্রে বিগত পনেরো বছরের মধ্যে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করা হইয়াছে সেক্ষেত্রে সেই নির্ধারণে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত হিসেবে গৃহীত খাজনার হারকে এই ধারার অর্থে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
ব্যাখাঃ এই ধারার প্রয়োগের জন্য ভূমির উপর দন্ডায়মান দালান অথবা ইমারত ভূমির অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
ধারা-২৪ রায়ত ও অধীনস্থ রায়তদের যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)
উপধারা-(১)এই অধ্যায়ের অধীনে স্বত্বলিপি প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার স্বত্বলিপি প্রণয়ন বা পরিমার্জনের সময়ে এলাকায় অবস্থিত স্বত্বলিপির অন্তর্ভুক্ত একজন রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত ভূমির জন্য প্রদানযোগ্য খাজনা (২) (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ সাপেক্ষে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া অনুমান করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে রায়ত কতৃর্ক উক্ত ভূমির জন্য প্রদানযোগ্য খাজনার পরিমাণ রাজস্ব অফিসারের মতানুসারে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া প্রতীয়মান না হয়, সেক্ষেত্রে তিনি একই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সংবলিত ভূমির জন্য দখলকার রায়ত কতৃর্ক সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনার হার বিবেচনা করিয়া তিনি যে পরিমান যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত মনে করেন সেই পরিমাণ হ্রাস করিবেন।
উপধারা-(৩) যেক্ষেত্রে অধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক কোনো ভূমির জন্য প্রদানযোগ্য খাজনার পরিমাণ রাজস্ব অফিসারের মতানুসারে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত বলে প্রতীয়মান না হয় সেক্ষেত্রে তিনি একই গ্রামে অথবা পাশ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সম্বলিত ভূমির জন্য দখলদার রায়ত কতৃর্ক প্রদানযোগ্য যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা অপেক্ষা শতকরা ৫০ ভাগের বেশী নহে এরূপ পরিমাণ খাজনা হ্রাস করিতে পারেন।
উপধারা-(৪)কোনো রায়ত অথবা অধীনস্থ রায়ত যদি (১) উপধারায় বর্ণিত কোনো ভূমি সম্বন্ধীয় খাজনা দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদান করে অথবা অাসলের অংশের নির্ধারিত মূল্যে প্রদান করে অথবা ঐ সকল নিয়মের মধ্যে একাধিক নিয়মে প্রদান করে তবে রাজস্ব অফিসার ঐ খাজনাকে ঐ ভূমির বার্ষিক মোট উত্‍পাদিত ফসলের মোট মূল্যের এক দশমাংশের বেশী নহে এরূপ যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত আর্থিক খাজনায় রূপান্তরিত করিবেন; যা নির্ধারণ করা হইবে ঐ ভূমির স্বাভাবিক উত্‍পাদন নির্ধারিত নিয়মে বহুগুণ বৃদ্ধি করে বিগত বিশ বছরে প্রত্যেক প্রকার ফসলের গড়মূল্য বাহির করিয়া সেই সঙ্গে যে বছর ফসলেরমূল্যাঅস্বাভাবিক ছিল সেই বছরের হিসাব হইতে বাদ দিয়ে
শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসার ঐ খাজনাকে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত আর্থিক খাজনায় রূপান্তরিত করিবার সময় ঐ রায়ত অথবা অধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতন ভূমির মালিককে ঐ রায়ত বা অধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতন ভূমির মালিককে ঐ রায়ত বা অধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতন ভূমির মালিক কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনার ২৫ ভাগের কম নয় ও ৫০ ভাগের বেশী নয় অনুরূপ একটি লাভের অংশ প্রদান করিবেন।
যখন ঐ উর্ধ্বতন ভূমির মালিক দ্রব্যের মাধ্যমে বা ফসলের অংশের নির্ধারিত মূল্যে বা ফসলের সাথে উক্ত উঠানামা করা হারে বা এই সকল নিয়মের মধ্যে একাধিক নিয়মে খাজনা প্রদান করে।
ধারা-২৫(অকৃষি প্রজাগণের ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রস্তুত এবং পুনঃপরীক্ষণের সময় রাজস্ব অফিসার রায়তীয় স্বত্বের অধিকারী ব্যতীত সকল অকৃষি প্রজাগণ কতৃর্ক অধিকৃত সকল অকৃষি ভূমির জন্য ২৩ ধারার বিধানসমূহের যতটুকু অকৃষি ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ততটুকু ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ করিবেন ।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ঐরূপ কোনো প্রজা কোনো স্বত্বাধিকারী অথবা রায়তী স্বত্বের অধিকারী ছাড়া অপর কোনো ব্যক্তির অধীনে কোনো ভূমি অধিকারে রাখে সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত ভূমির জন্য ঐ প্রজা কতৃর্ক প্রদত্ত প্রচলিত খাজনাকে ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বলিয়া অনুমান করেন যদি তাহা উক্ত ব্যক্তি কতৃর্ক ঐভূমির জন্য প্রদানযোগ্য ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত খাজনা অপেক্ষা শতকরা ৫০ ভাগের বেশী না হয় এবং তা যদি বেশী হয় তবে রাজস্ব অফিসার উক্ত প্রজা কতৃর্ক অধিকৃত উক্ত ভূমির ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা অপেক্ষা শতকরা ৫০ ভাগের বেশী না হয় এরূপ পরিমাণ খাজনা ধার্য করিবেন।
ধারা-২৫ক (কতিপয় ক্ষেত্রে খাজনা বৃদ্ধি ও নির্ধারণ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে কোনো তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনা ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের মালিক কতৃর্ক ভূমির উপরস্থ মালিক অথবা সরকারকে প্রদানযোগ্য খাজনা বা রাজস্ব অপেক্ষা কম হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনার পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারেন যাহা ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের মালিক কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা বা রাজস্বের চেয়ে কম হইবে না।
শর্ত থাকে যে, যখন কোনো তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্ব মূল এস্টেট,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের অংশ নিয়ে গঠিত হয় তখন এই ধারা মোতাবেক খাজনা বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার কোনো ভূমির জন্য ভূমির মালিককে প্রদানযোগ্য খাজনা ও মূল এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের অবশিষ্ট অংশসহ উক্ত ভূমির মালিকের খাস দখলীয় ভূমির খাজনার মূল্য বিবেচনা করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বের অধিকারী, রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক অধিকৃত ভূমির খাজনা ধার্যের জন্য দায়ী হয়, কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো খাজনা ধার্য করা হয়নিসেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার মধ্যস্বত্বের অধিকারী কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের (৭) ধারা অনুসারে এবং ঐরূপ রায়ত ও অধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা (২৬) ধারার নীতি অনুসারে নির্ধারণ করিবেন।
ধারা-২৬ (নিস্কর জমির খাজনা ধার্যকরণ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে কোনো একজন রায়ত অথবা অধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক কোনো নিষ্কর ভূমির অধিকার লাভ করেন সেক্ষেত্রে একই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও অনুরূপ সুবিধা বিশিষ্ট ভূমির দখলী রায়তগণ সাধারণতঃ যে খাজনা প্রদান করেন সেই হার বিবেচনা করে রাজস্ব অফিসার বিবেচনা অনুযায়ী ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে কোনো রায়ত কতৃর্ক কোনো নিষ্কর অকৃষি ভূমির অধিকার লাভ করা হয় সেক্ষেত্রে ঐরূপ ভূমির খাজনা অকৃষি ভূমির ক্ষেত্রে ২৩ ধারার বিধান যতখানি প্রযোজ্য সেইভাবে উক্ত ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
ধারা-২৭(কোনো কোনো ক্ষেত্রে পৃথক জোত অথবা প্রজাস্বত্ব সৃষ্টি)

যেক্ষেত্রে মালিক অথবা রায়তীস্বত্বের অধিকারী ছাড়া কোনো খাজনা প্রাপক একটি জোত অথবা প্রজাস্বত্বের একটি অংশ খাস দখলে রাখে সেক্ষেত্রে উক্ত অংশ একটি পৃথক জোত অথবা প্রজাস্বত্বরূপে গণ্য হইবে এবং তাহার জন্য পৃথকভাবে খাজনা ধার্য করা হইবে এবং ঐরূপ খাজনা ধার্য করার সময় রাজস্ব অফিসার মূল জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনা নতুন জোত বা প্রজাস্বত্বের আনুপাতিক এলাকা ও মূল্য এবং ঐ শ্রেণীর জোত বা প্রজাস্বত্বের ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ করার নিমিত্ত এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ বিবেচনা করিবেন।
ধারা-২৮ (সেবামূলক প্রজাস্বত্বের খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রস্তুত বা পরিমার্জনের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত রেকর্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি সেবার বিনিময়ে কোনো ভূমির খাজনা ছাড়া অধিকারে রাখার সাক্ষ্য দিতে পারে তবে ঐ ভূমির খাজনা একই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা এবং অনুরূপ সুবিধা সংবলিত ভূমির জন্য দখলীয় রায়ত কতৃর্ক প্রদত্তখাজনার হার বিবেচনায় রাখিয়া যে হার যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত মনে করিবেন সেই হারে ধার্য করিবেন।
শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোনো কিছুই চা এস্টেটের এলাকায় বা অন্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের এলাকায় অবস্থিত সেবার বিনিময়ে নিষ্কর ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
ধারা-২৯(এই অধ্যায়ের অধীনে খাজনা নির্ধারণের ফলাফল)
উপধারা-(১)এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত ও ১৯ ধারা মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপি বা খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত খাজনা ৫৩ ধারার বিধান সাপেক্ষে শুদ্ধভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণার্থে ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত হয়েছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(২)এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ মোতাবেক কোনো খাজনা নির্ধারণ সম্বন্ধে অথবা উক্ত খাজনা নির্ধারণ থেকে বাদ দেয়া সম্বন্ধে আদালতে কোনোমামলা দায়ের করা চলিবে না।
ধারা-৩০ (দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা)
উপধারা-(১)কোনো এলাকা সম্বন্ধে খতিয়ান প্রস্তুত এবং পরিমার্জন করার নিমিত্ত ১৭ ধারা মোতাবেক কোনো আদেশ জারি করার পর কোনো দেওয়ানী আদালত খাজনা পরিবর্তন অথবা কোনো প্রজার মর্যাদা নিরূপণ অথবা উক্ত এলাকার জোত অথবা প্রজাস্বত্বের অনুসঙ্গ সম্বন্ধীয় কোনো মামলা অথবা দরখাস্ত গ্রহণ করিবেন না; এবং ঐ এলাকা সম্বন্ধীয় কোনো মামলা বা দরখাস্ত যদি কোনো দেওয়ানী আদালতে আদেশ প্রদানের তারিখে রুজু অবস্থায় থাকে, তবে তাহা আর চলিতে দেয়া হইবে না এবং তা বাতিল হইবে।
ব্যাখ্যাঃ এই উপধারায় মামলা বলতে একটি আপিলকেও অন্তর্ভুক্ত করিবে।
উপধারা-(২) এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো খতিয়ান প্রস্তুত, বা পুনঃপরীক্ষণের জন্য প্রদত্ত আদেশ সম্বন্ধে বা ঐরূপ কোনো রেকর্ড বা তার অংশবিশেষ প্রস্তুত, প্রকাশ,স্বাক্ষর অথবা সত্যায়ন সম্পর্কে দেওয়ানী আদালতে মামলা আনয়ন করা যাইবে না।
উপধারা-(৩)কোনো ভূমি সম্পর্কে দেওয়ানী আদালতের বা হাইকোর্টের কোনো মামলা, আপিল বা কার্যক্রম বা ঐরূপ মামলা, আপিল বা কার্যক্রমে প্রদত্ত কোনো আদেশ এই আইনের বিধানসমূহ মোতাবেক খতিয়ান অথবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রণয়ন অথবা পুনঃপরীক্ষণ করার পথে কোনো প্রতিবন্ধকরূপে কার্যকর হইবে না।
ধারা-৩১(বর্তমান খতিয়ান সমূহের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুত)
উপধারা-(১)১৭ ধারার কার্যক্রমের পরিবর্তে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম অধ্যায় অথবা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ৯ম অধ্যায় মোতাবেক সর্বশেষ প্রস্তুতকৃত এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের উপর ভিত্তি করিয়া কোনো রিভিশন ছাড়া অথবা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বিবরণ রিভিশন বা রেকর্ডভুক্ত করার পর কোনো নির্দিষ্ট জেলা অথবা জেলার অংশ বা স্থানীয় এলাকা সম্বন্ধে ৫ম অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুত করার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে (১) উপধারার অধীনে কোনো আদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধি মোতাবেক বিবরণসমূহ রিভিশন অথবা রেকর্ডভুক্ত করিবেন।
উপধারা-(৩)উপধারা (২) মোতাবেক শুদ্ধকৃত স্বত্বলিপি এই অধ্যায়ের অধীনে যথাযথভাবে রিভিশনকৃত এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়ছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(৪) যেক্ষেত্রে উপধারা (১) মোতাবেক কোনো এলাকা সম্বন্ধে কোনো আদেশ দেয়া হয় সেক্ষেত্রে ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন এর ১০৫, ১০৫ক এবং ১০৬ ধারা বা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন এর ১২১, ১২২ এবং ১২৩ ধারা, যেখানে যা প্রযোজ্য হইবে, উক্ত এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখে উক্ত ধারাসমূহের অধীনে বিচারাধীন কোনো দরখাস্ত, মামলা বা কার্যক্রমসমূহ আর চলিবে না এবং বাতিল হইবে।

পঞ্চম অধ্যায়
খাজনা প্রাপকদের স্বার্থ ও কতিপয় অন্যান্য
স্বার্থ অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ

ধারা-৩২ (ব্যাখা)

এই অধ্যায়ে খাজনা প্রাপক, মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী বলিতে দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীনে যে খাজনা প্রাপক স্বত্বাধিকারী অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে তাহাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে বা বুঝায়।
ধারা-৩৩ (ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুতের আদেশ)

৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক যে কোনো জেলা, জেলার অংশ বিশেষ অথবা স্থানীয় এলাকা সম্বন্ধীয় খতিয়ান প্রস্তুত, পুনঃপরীক্ষণ এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশের সাথে সাথে রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত ফরমে এবং নির্ধারিত উপায়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারন বিবরণী তৈরী করিবেন যাহার মধ্যে উক্ত জেলা, জেলার অংশবিশেষ অথবা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনা প্রাপকগণের সকলের মোট সম্পদ এবং প্রকৃত আয় এবং এই অধ্যায় অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে যাহাদের স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সেই সমস্ত ব্যক্তিগণকে এই আইনের বিধানসমূহ মোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপুরণসহ নির্ধারিত অপরাপর বিবরণসমূহ উল্লেখ থাকিবে।
শর্ত থাকে যে, সম্পত্তি সম্বন্ধে পঞ্চম ক অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করা হইয়াছে এই অধ্যায় অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে অধিগ্রহণকৃত উক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরীর কোনোপ্রয়োজন নাই।
ধারা-৩৪(মালিক, মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অন্যান্য খাজনা প্রাপকগণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবহার)

এরূপ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরীর ক্ষেত্রে বিবরণীর সাথে ম্বন্ধযুক্ত এলাকায় অবস্থিত কোনো এস্টেট, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বা কোনো এস্টেটের, মধ্যস্বত্বের, জোতের বা প্রজাস্বত্বের খন্ডে খাজনা আদায়কারী প্রত্যেক স্বত্বাধিকারী, মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অন্যান্য খাজনা প্রাপক, সে ভিন্নভাবে খাজনা আদায় করুক বা অন্যান্যদেরসঙ্গে আদায় করুক না কেন এ অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ব্যবহৃত হইবে।
শর্ত থাকে যে, মিতক্ষরা আইন মোতাবেক নিয়ন্ত্রিত অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে উক্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত খাজনা প্রাপকগণ উক্ত উদ্দেশ্যে যৌথভাবে গণ্য বা ব্যবহৃত হবে।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে একাধিক স্বত্ত্বাধিকারী, মধ্যস্বত্বের অধিকারী অথবা অন্যান্য খাজনা প্রাপক যৌথভাবে খাজনা প্রাপকের স্বার্থসমূহ অধিকারে রাখে এবং ঐরূপ স্বার্থসমূহের প্রকৃত আয় পাঁচশত টাকা অতিক্রম না করে সে ক্ষেত্রে উক্ত স্বত্বাধিকারীগণ, রায়তী স্বাত্বের অধিকারীগণ, অন্যান্য খাজনা প্রাপকগণ এই অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যৌথভাবে গণ্য বা ব্যবহৃত হইতে পারে।
ধারা-৩৫ (খাজনা প্রাপকগণের মোট আয় প্রকৃত আয় গণনা)
উপধারা-(১)এই অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে-
(ক)খাজনা প্রাপকের মোট আয় অধীনস্থ প্রজা কতৃর্ক ঐ খাজনা প্রাপককে দেয়া মোট খাজনা ও সেস  এর সমস্টিকে ধরিতে হইবে।
(i)২য় অধ্যায় মোতাবেক স্বার্থ অধিগৃহণের ক্ষেত্রে নোটিশে বর্ণিত তারিখের অব্যবহিত আগের কৃষি বছরের জন্য; ও
(ii)অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপির অব্যবহিত আগের কৃষি বছরের জন্য; এবং

যেক্ষেত্রে ঐ খাজনা প্রাপক এবং এস্টেটের মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী হয়, সেক্ষেত্রে ২০ ধারা মোতাবেক খাস ভূমি দখলে রাখার জন্য ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক নির্ধারিত মোট যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী পণয়নের জন্য গণনা করা হয়।
তবেশর্ত থাকে যে, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৭ এবং ২৮ ধারায় বর্ণিত মধ্যস্বত্বের অধিকারী,রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজার ক্ষেত্রে ঐ ভূমির জন্য ঐ সকল ধারার বিধান মোতাবেক ধার্যকৃত ও নির্ধারিত ও ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপিতে অন্তর্ভুক্ত খাজনাকে এই দফার উদ্দেশ্যে ঐ বছরের ঐভূমির জন্য ঐ মধ্যস্বত্বের অধিকরী রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কর্তৃক তার উপরস্থ উর্ধ্বতন ভূমির মালিককে দেয়া খাজনা বলে ধরিয়া লওয়া হইবে;(খ)মোট আয় হতে নিম্নলিখিত অর্থ বাদ দিয়ে খাজনা প্রাপকের প্রকৃত আয় গণনা করা হবে-
(i)মোট আয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে সরকার বা উপরস্থ ভূমির মালিককে,ভূমি রাজস্ব অথবা খাজনা ও সেস হিসেবে গ্রহীতা কর্তৃক প্রদানের জন্য গণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমাণ অর্থ;(ii)ঐ বছরের আয়ের জন্য ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক কর হিসেবে ঐ খাজনা প্রাপক কর্তৃক প্রদানের জন্য গণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমাণ অর্থ;(iii)ঐ বছরের আয়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত অকৃষি হতে আগত আয়ের জন্য ১৯২২ সালের আয়কর আইন মোতাবেক কর হিসেবে ঐ খাজনা প্রাপক কর্তৃক প্রদানের জন্য গণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমান অর্থ;(ivঐ ভূমির সেচ ব্যবস্থা এবং সংস্কারমূলক কার্যাদি পরিচালনা করার জন্য খাজনা প্রাপক ক

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :
Facebook Twitter